মাদারীপুরে মানবপাচার মামলায় প্রধান আসামি জাহিদুল ইসলামকে (৩৮) গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে রাজৈর উপজেলার টেকেরহাট এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এখনো পলাতক রয়েছে মামলার মানবপাচার চক্রের মূল হোতা কুদ্দুস রহমান (৩৫)।
শুক্রবার দুপুরে তাকে আদালতে পাঠায় পুলিশ।
গ্রেফতার জাহিদুল ইসলাম গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার গোহালা গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, সদর উপজেলার চর খোয়াজপুর গ্রামের মৃত বজলু হাওলাদারের ছেলে সানাউল্লাহকে (২২) গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার গোহালা গ্রামের মানবপাচারকারী জাহিদুল ইসলামের সরাসরি ইতালি নেয়ার চুক্তি হয়। চুক্তি মোতাবেক ২০ লাখ টাকা দিলে ২০২৫ সালের ২৯ অক্টোবর সানাউল্লাহকে সৌদি আরব হয়ে লিবিয়া নিয়ে আটকে নির্যাতন চালায় দালালচক্র।
পরে নির্যাতনের ভিডিও বার্তা পাঠিয়ে সানাউল্লাহর পরিবারের কাছ থেকে আদায় করা হয় মুক্তিপণের আরও ২০ লাখ টাকা। ধারদেনা করে মাফিয়াদের হাতে মোট ৪০ লাখ টাকা তুলে দিলেও গত ৬ মাস ধরে কোনো হদিস মিলছে না ওই যুবকের।
পরিবার আশঙ্কা করছে সানাউল্লাহকে নির্যাতন করে মেরে ফেলেছে দালালচক্র। এই ঘটনায় গত পহেলা জুন সানাউল্লাহর দুলাভাই, দুধখালী গ্রামের আব্দুর রশিদ খানের ছেলে রনি খান (৩৭) বাদী হয়ে মাদারীপুর মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে চক্রের প্রধান আসামি জাহিদুলসহ ১১ জনের নামে মামলা করেন।
পরে আদালতের নির্দেশে সদর মডেল থানায় মামলা এজাহারভুক্ত করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জাহিদুলকে গ্রেফতার করে সদর মডেল থানা পুলিশ।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, ‘মানবপাচার মামলায় প্রধান আসামি জাহিদুলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর আগে এই ঘটনায় শিবচরের কেরানীবাট গ্রামের সামাদ খানের মেয়ে কুলসুম বেগমকে (৪২) গ্রেফতার করা হয়। মামলার বাকি আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান চলছে।’



