সিরাজদিখানে ওয়াকফ সম্পত্তি দখলের অভিযোগ

১৯৬৯ সালে হাজী জোহর আলী ও মোহাম্মদ আলী মুসল্লিদের ঈদের নামাজের জন্য ১৬ শতাংশ জমি ওয়াকফ রেজিস্ট্রি করে দেন।

আব্দুস সালাম, মুন্সীগঞ্জ

Location :

Munshiganj
ইটের দেয়াল নির্মাণের মাধ্যমে দখলের চেষ্টা
ইটের দেয়াল নির্মাণের মাধ্যমে দখলের চেষ্টা |নয়া দিগন্ত

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের বালুচর ইউনিয়নের খাসমহল বালুচর গ্রামে একটি ওয়াকফ সম্পত্তি বারবার দখলের অপচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও সেখানে ইটের দেয়াল নির্মাণ ও গাছ রোপণের মাধ্যমে দখল প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

অভিযোগে বলা হয়, বালুচর মৌজার এসএ খতিয়ান নম্বর ২৭৭, আরএস খতিয়ান নম্বর ১১৩১, এসএ দাগ নম্বর ২৪৮৭ এবং আরএস দাগ নম্বর ৩২৫৪ ভুক্ত ১৬ শতাংশ জমি, যার চৌহদ্দি উত্তরে রাস্তা, দক্ষিণে মনোয়ারা, পূর্বে আক্তার হোসেন ও পশ্চিমে সরকারি হালট, তা ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে নিবন্ধিত। এই জমি হাজী জোহর আলীর ছেলে হাজী ইসমাইল হোসেন ও তার লোকজন বারবার দখলের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬৯ সালে হাজী জোহর আলী ও মোহাম্মদ আলী মুসল্লিদের ঈদের নামাজের জন্য ১৬ শতাংশ জমি ওয়াকফ রেজিস্ট্রি করে দেন। দীর্ঘদিন সেখানে ঈদের নামাজ আদায় করা হয়। পরে স্থান সংকুলান না হওয়ায় ঈদগাহ অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়। ১৯৯৩ সালে মোহাম্মদ আলী ও মনোয়ারা বেগম আরো ৪৭ শতাংশ জমি ওয়াকফ হিসেবে রেজিস্ট্রি করেন। অভিযোগ রয়েছে, এরপর থেকেই হাজী জোহর আলীর এক ছেলে হাজী ইসমাইল হোসেন ওই পূর্বের ১৬ শতাংশ জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন।

একপর্যায়ে সেখানে একটি দালান নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হলে স্থানীয় বাসিন্দা কামাল হোসেন লিখিত অভিযোগ করেন। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত স্থাপনা নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন এবং নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে আবারো জমির অবশিষ্ট অংশে গাছ লাগানো ও ইটের দেয়াল নির্মাণের মাধ্যমে দখলের চেষ্টা চলছে বলে দাবি করেন কামাল হোসেন।

তিনি জানান, তার দায়ের করা মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। নতুন করে দখল চেষ্টার বিষয়ে তিনি আবারো আদালতের দ্বারস্থ হবেন।

কামাল হোসেন জানান, ওই জমিতে ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি অবৈতনিক জনকল্যাণমূলক শিশুশিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। স্থানীয় শিক্ষানুরাগীরা এটি গড়ে তুলেছিলেন। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেয়া হলে সেখানে থাকা টিনের ঘরটিও দখলের পাঁয়তারা চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ বিষয়ে হাজী ইসমাইল হোসেনের ছেলে বেলায়েত হোসেন জানান, ওয়াকফ সংক্রান্ত বিষয়ে তাদের পক্ষ থেকেও আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।

দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি দাবি করেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে জমিটি ভোগ-দখল করে আসছেন এবং সেখানে তাদের পুরোনো টিনের ঘর রয়েছে। আদালত থেকেই প্রকৃত তথ্য নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

Topics