ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ পুনর্গঠনের আহ্বান জানালেন তারেক রহমান

‘আগামী ১২ তারিখে আপনারা বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারেন সঠিক ব্যক্তির পক্ষে রায় প্রদানের মাধ্যমে।’

মালেক আদনান, টাঙ্গাইল

Location :

Tangail
টাঙ্গাইলের জনসভায় বক্তব্য রাখছেন তারেক রহমান
টাঙ্গাইলের জনসভায় বক্তব্য রাখছেন তারেক রহমান |নয়া দিগন্ত

ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ পুনর্গঠনের আহ্বান জানিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, এখন সময় এসেছে দেশকে পুনর্গঠন করার।

এ সময় তিনি ভোটারদের উদ্দেশ করে বলেন, ‘আগামী ১২ তারিখে আপনারা বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারেন সঠিক ব্যক্তির পক্ষে রায় প্রদানের মাধ্যমে।’

তিন দিনের উত্তরাঞ্চল সফর শেষে শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

টাঙ্গাইল শহর বাইপাসের চরজানা এলাকায় জেলা বিএনপি এ জনসভার আয়োজন করে। বিকেল ৫টা নাগাদ তিনি জনসভাস্থলে পৌঁছান। এ সময় তার সহধর্মিণী ডা: জোবায়দা রহমান তার সাথে ছিলেন। জনসভা শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা দেন তিনি।

কোনো রাজনৈতিক জনসভা হিসেবে এটিই তার প্রথম টাঙ্গাইল সফর। জনসভায় তিনি জেলার আটটি আসনের বিএনপির প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘এখন আমাদের সামনে সময় এসেছে, আমরা আন্দোলন করেছি, আমরা সংগ্রাম করেছি, আমরা অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করেছি, আমরা আমাদের বহু সহকর্মীকে হারিয়েছি। এখন আমাদের দেশকে পুনর্গঠন করতে হবে। কারণ এই বাংলাদেশকে যদি আমরা পুনর্গঠন করতে না পারি, তাহলে সবচাইতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বাংলাদেশের মানুষ। কাজেই বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে হলে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘গত ১৬ বছরে বহু অত্যাচার-নির্যাতন, গুম-খুনের শিকার হওয়ার পরেও বিএনপির নেতাকর্মীসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ দল-মত নির্বিশেষে গত ৫ আগস্ট রাজপথে নেমে এসেছিল। তারা রাজপথে নেমে এসে বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি পরিবর্তন ঘটিয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘গত ১৬ বছর মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছিল। কথা বলার অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছিল। আপনাদের স্বাধীনতার অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছিল। আগামী ১২ তারিখে আপনারা বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারেন সঠিক ব্যক্তির পক্ষে রায় প্রদানের মাধ্যমে। কারণ গত ৫ আগস্ট যে পরিবর্তন হয়েছে, এটি শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তন হলে চলবে না, এই পরিবর্তনটি হতে হবে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের দিন হিসেবে। আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন শুধু নির্বাচনের দিন হলে চলবে না, এই নির্বাচনের দিনটি হতে হবে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের দিন। সেই জন্যই এই নির্বাচনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন।’

বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা দেখেছি গত ১৬ বছরে ঢাকাসহ দেশের বড় বড় শহরে মেগা প্রজেক্টের নামে মেগা দুর্নীতি হয়েছে। আমরা যেমন খুন দেখেছি, গুম দেখেছি, মিথ্যা মামলা দেখেছি, গায়েবি মামলা দেখেছি; একইভাবে মেগা মেগা দুর্নীতিও দেখেছি। এই অবস্থার পরিবর্তনের সময় চলে এসেছে। এই অবস্থার পরিবর্তন করতে হবে। আর এই অবস্থার পরিবর্তন যদি করতে হয় তাহলে গত ৫ আগস্ট মানুষ দলমত নির্বিশেষে যেভাবে রাজপথে নেমে এসেছিল, ঠিক একইভাবে আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে আপনারা যারা ভোটার আপনাদের সকলকে ভোটকেন্দ্রে নেমে আসতে হবে। তা নাহলে গণতন্ত্র আবার বাধাগ্রস্ত হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনের মাধ্যমে যেন গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করা যায়, জনগণের নিকট জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠিত করা যায়, তার জন্য এই জনগণকেই সামনে এগিয়ে আসতে হবে। কারণ এই বাংলাদেশ কিভাবে চলবে তার সিদ্ধান্ত নেবার মালিক এই দেশের জনগণ। কারণ এদেশের মালিক এদেশের জনগণ।’

টাঙ্গাইলকে একটি ঐতিহ্যবাহী অঞ্চল আখ্যা দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের প্রার্থীরা আপনাদের সামনে তাদের স্ব স্ব এলাকার বিভিন্ন দাবি উপস্থাপন করেছেন। আগামী ১২ তারিখে আপনারা ধানের শীষকে নির্বাচিত করলে ইনশাআল্লাহ ১৩ তারিখে বিএনপির সরকার গঠিত হলে আপনাদের এলোকার যে দাবিগুলো আছে পর্যায়ক্রমে সেই উন্নয়নমূলক কাজগুলো আমরা শুরু করব। টাঙ্গাইলকে আমরা পরিকল্পিতভাবে একটি শিল্পের শহরে পরিণত করতে পারব। টাঙ্গাইলের আনারসকে বিভিন্ন পদ্ধতিতে রূপান্তর করে কিভাবে বিদেশে রফতানি করা যায় সেই পরিকল্পনা আমাদের আছে।’

একইসাথে টাঙ্গাইলের তাঁতশিল্পের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমরা যদি সকলে মিলে পরিকল্পনা গ্রহণ করি, যদি সকলে মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করি তাহলে শুধু টাঙ্গাইল নয়, পুরো বাংলাদেশেই আমরা কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে সক্ষম হব। কিন্তু এই পরিবর্তন যদি আনতে হয় তাহলে এই দেশের মালিক জনগণকে আমাদের সাথে থাকতে হবে। কারণ মালিক ছাড়াতো কোনো কাজ করা যাবে না। কাজেই আপনারা যদি বিএনপিকে সমর্থন দেন তাহলে ইনশাআল্লাহ এই দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটনো সম্ভব হবে।’

এর আগে যতবার বিএনপি দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিল ততবারই দেশের উন্নয়ন হয়েছে উল্লেখ করে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ ছেলে তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা দেশের নারী-পুরুষদের স্বাবলম্বী করতে চাই। কৃষক ভাইদের সহযোগিতা করতে চাই। ১৩ তারিখে বিএনপি সরকার গঠন করলে কৃষক ভাইদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি লোন সুদসহ মওকুফ করে দিতে চাই। আমরা মানুষের ঘরে ঘরে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে চাই। আমরা মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন এবং অন্যান্য ধর্মের ধর্মীয়গুরুকে সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিমাসে সম্মানীর ব্যবস্থা করতে চাই। এইভাবে আমরা প্রত্যেকটি শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যেভাবে আপনাদের সামনে আমাদের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছি, আপনাদেরকেও তাহলে একই রকমের পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘আর যেন কেউ এসে বাংলাদেশের মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিতে না পারে, বাংলাদেশের মানুষের কথা বলার অধিকার কেড়ে নিতে না পারে, এ ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। আগামী ১২ তারিখ সকাল সকাল কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে হবে।’

জনসভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন। অন্যদের মধ্যে টাঙ্গাইলের আটটি আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা বক্তব্য রাখেন। তারা হলেন- আব্দুস সালাম পিন্টু, আহমেদ আজম খান, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, ওবায়দুল হক নাসির, ফকির মাহবুব আনাম স্বপন, লুৎফর রহমান মতিন ও মো: রবিউল আওয়াল।