দেবিদ্বারে কুকুরকে লাথি দেয়ার প্রতিবাদ করায় মারধরে বৃদ্ধের মৃত্যু

বাড়ির পাশে একটি মাচায় বসে ছিলাম। হঠাৎ চিৎকার শুনে গিয়ে দেখি আমার দাদা মাটিতে পড়ে আছেন, আর বাকিরা দৌড়ে পালিয়ে যাচ্ছে। এ সময় আনোয়ার নামে একজন দা নিয়ে আমার দিকে তেড়ে আসে। পরে স্থানীয়রা দাদাকে হাসপাতালে পাঠান। সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

দেবিদ্বার (কুমিল্লা) সংবাদদাতা
নয়া দিগন্ত

কুমিল্লার দেবিদ্বারে কুকুরকে লাথি দেয়ার প্রতিবাদ করায় প্রতিপক্ষের মারধরে জুলুস মিয়া (৫৫) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সুবিল ইউনিয়নের পূর্ব নারায়নপুর গ্রামের মধ্যপাড়ায় আশরাবের বাড়ির সামনে একটি চায়ের দোকানে এ ঘটনা ঘটে।

জুলুস মিয়া ওই গ্রামের মরহুম সায়েদ আলীর ছেলে।

স্থানীয়রা জানায়, একই গ্রামের সিদ্দিকের ছেলে কামাল (৩৫) দোকানের সামনে থাকা একটি কুকুরকে লাথি দেন। এতে জুলুস মিয়া প্রতিবাদ করেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রথমে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। পরে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়।

একপর্যায়ে কামালের ভাই আনোয়ার (২৮), আলী আহম্মদ (৩০) ও চাচাতো ভাই ফখরুল মিলে জুলুস মিয়াকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এ সময় কামাল জুলুস মিয়ার অণ্ডকোষে লাথি মারলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের নাতি আকাশ বলেন, ‘আমি বাড়ির পাশে একটি মাচায় বসে ছিলাম। হঠাৎ চিৎকার শুনে গিয়ে দেখি আমার দাদা মাটিতে পড়ে আছেন, আর বাকিরা দৌড়ে পালিয়ে যাচ্ছে। এ সময় আনোয়ার নামে একজন দা নিয়ে আমার দিকে তেড়ে আসে। পরে স্থানীয়রা দাদাকে হাসপাতালে পাঠান। সেখানেই তার মৃত্যু হয়।’

নিহতের ভাতিজা মো: রোমান বলেন, ‘আমার চাচার পাঁচ ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। তিনি কৃষিকাজ করে পরিবার চালাতেন। এখন এ দরিদ্র পরিবারের ভবিষ্যৎ কী হবে বুঝতে পারছি না।’

নিহতের বড় ছেলে ইব্রাহিম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার বাবাকে যারা নির্মমভাবে হত্যা করেছে, আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’

থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: মনিরুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।