কুষ্টিয়ায় নবম পে-স্কেল দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে জেলার সরকারি কর্মচারীরা দ্বিতীয় দিনের মতো দুই ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করেছেন।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টায় কর্মচারীরা হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান ধর্মঘটে যোগ দেন।
এ সময় বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছে কর্মচারীরা। পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে কর্মচারীরা বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত করে তোলে কালেক্টরেট চত্বর। বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে এ কর্মবিরতিতে সভাপতিত্ব করেন কুষ্টিয়া জেলা কমিটির সভাপতি শরাফত হোসেন। বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক, ফজলুর রহমান, মখলেসুর রহমান, আনোয়ার হোসেন, জাহাঙ্গীর হোসেন, সোলায়মান কবির, আহসারুর রহমান প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, নবম পে-স্কেল দ্রুত বাস্তবায়ন, ১:৪ অনুপাতে ১২ গ্রেডভিত্তিক বেতন কাঠামো নির্ধারণ এবং সর্বনিম্ন বেতন ৩৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করে দ্রুত গেজেট প্রকাশ করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কর্মচারীরা বেতন ও সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছেন। এসব দাবি দ্রুত বাস্তবায়নে সরকার কার্যকর উদ্যোগ না নিলে আরো কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
বক্তারা আরো বলেন, দ্রব্য মূল্যের বাজারে কর্মচারীদের বেতন দিয়ে সংসার চালানো কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ছে। সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ, বাড়িভাড়াসহ সব কিছুতেই ব্যয়ভার মেটাতে কর্মচারীদের দুর্বিষহ জীবনযাপন করতে হচ্ছে। দেশের সব সরকারি অফিসের কর্মচারীরা দীর্ঘদিন থেকে বঞ্চিত এবং শোষিত। অথচ দেশের সব ক্ষেত্রে সফলতার মূলে রয়েছে কর্মচারীরা। তারা নিরলসভাবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে সরকারের সব পলিসি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে অথচ কর্মচারীদের পে-স্কেল বাস্তবায়নে গাফিলতি দেখা যাচ্ছে।
বক্তারা বলেন, দ্রুত পে-স্কেল বাস্তবায়ন হবে বলে আশা করেছিলাম, কিন্তু সরকারের নিরবতা ও নিশ্চুপ আচরণে আমরা অবাক হলাম। আশা করি সরকারের বোধগম্য হবে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছে কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবেন।
বক্তারা আরো বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে সুপারিশ করেছিল জাতীয় বেতন কমিশন। সেখানে প্রথম থেকে ২০তম গ্রেড, সব স্তরেই বেতন বাড়ানোর সুপারিশ দেয়া হয়। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করবে না বলে ঘোষণা দেন।



