এক মাস চার দিনের ব্যবধানে তৃতীয়বারের মতো প্রকাশ্যে শুরু হয়েছে সিলেটের হযরত শাহজালাল রহ:-এর মাজারের দানের টাকা গণনা। আগের দুই দফায় দানবাক্স থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ, দেশী-বিদেশী মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার পাওয়ার পর এবারো দানবাক্সে জমা হওয়া অর্থের হিসাব করতে বসেছে কর্তৃপক্ষ।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল সোয়া ১০টার দিকে মাজারের দানবাক্স (ডেকচি) থেকে অর্থ বের করে দরগাহ মসজিদের বারান্দায় গণনা শুরু হয়।
মাজারের আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনা নির্ধারণে গঠিত কমিটির ব্যবস্থাপনায় এ গণনা চলছে। এতে মাদরাসার শিক্ষার্থী, মাজার কমিটির সদস্য ও জেলা প্রশাসনের কর্মচারীরা অংশ নিয়েছেন।
এতে উপস্থিত আছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিউক) চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদীসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
এর আগে গত ২২ জুন প্রায় ৭০০ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে মাজারের দানের টাকা গণনা করা হয়। সেদিন শাহজালাল রহ:-এর মাজারের চারটি এবং জেলা প্রশাসনের স্থাপন করা চারটিসহ মোট আটটি দানবাক্স ডাবল লক অবস্থায় খোলা হয়। এতে নগদ ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা, ৭ আনা স্বর্ণালঙ্কার ও দুইটি সৌদি রিয়াল পাওয়া যায়।
এর সঙ্গে জেলা প্রশাসনের ফান্ড থেকে সাবেক জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের দেয়া ৫ লাখ টাকার চেক যোগ হলে মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা। পরে ওই অর্থ হযরত শাহজালাল রহ:-এর নামে সোনালী ব্যাংকের করপোরেট শাখায় জমা দেয়া হয়।
এর মাত্র ১৮ দিন পর, গত ১১ জুলাই দ্বিতীয় দফায় দানবাক্স খোলা হয়। এবার পাওয়া যায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। পাশাপাশি সৌদি আরব, ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, ইন্দোনেশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, হংকং, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সিঙ্গাপুর, কাতার, মালয়েশিয়া ও পাকিস্তানের বিভিন্ন মুদ্রা পাওয়া যায়। সেবার দেশী-বিদেশী মুদ্রার পাশাপাশি দানবাক্স থেকে ৯ গ্রাম স্বর্ণ, ১০ গ্রাম স্বর্ণসদৃশ বস্তু এবং ৩৯ দশমিক ৪ গ্রাম রুপাও পাওয়া গিয়েছিল।
এবার তৃতীয় দফায় গণনা চলছে। দানবাক্সে গতবারের পর থেকে জমা হওয়া নগদ অর্থ, দেশী-বিদেশী মুদ্রা ও মূল্যবান সামগ্রীর পরিমাণ গণনা শেষ হলেই জানা যাবে।



