গাইবান্ধায় পাউবোর ২৫ কোটি টাকার বাঁধ ধ্বংসের শঙ্কা

গাইবান্ধার সাঘাটা-মুন্সিরহাট এলাকায় নদী থেকে দীর্ঘ দিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছে। উত্তোলিত বালু পরিবহনে দিন-রাত ভারী ট্রাক বাঁধের ওপর দিয়ে চলাচল করায় বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। কয়েকটি অংশে ধসের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।

সোহাগ খন্দকার, সাঘাটা (গাইবান্ধা)

Location :

Gaibandha
অবৈধভাবে বালু উত্তোলন
অবৈধভাবে বালু উত্তোলন |নয়া দিগন্ত

গাইবান্ধার সাঘাটায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁধ এক বছরের মাথায়ই ধ্বংসের শঙ্কায় পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

‎সরেজমিনে দেখা গেছে, গাইবান্ধার সাঘাটা-মুন্সিরহাট এলাকায় নদী থেকে দীর্ঘ দিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছে। উত্তোলিত বালু পরিবহনে দিন-রাত ভারী ট্রাক বাঁধের ওপর দিয়ে চলাচল করায় বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। কয়েকটি অংশে ধসের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।

‎স্থানীয়দের দাবি, অতিরিক্ত ধুলা-বালি ও ভারী যানবাহনের কম্পনে ফলজ গাছ ও কৃষিজমিতে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। আগের মতো গাছে ফল ধরছে না, অনেক সময় ফুল ঝরে যাচ্ছে। জমিতেও প্রত্যাশিত ফলন মিলছে না। এতে উৎপাদন খরচ বাড়লেও আয় কমে যাচ্ছে। অবৈধ বালু উত্তোলন ও ভারী যানবাহনের অবাধ চলাচলের কারণে সদ্য নির্মিত বাঁধটির বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে।

‎স্থানীয় কৃষক মাহাবুর রহমান তপন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই এ অবস্থা চললেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কেউ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নাম ব্যবহার করেন, আবার কেউ সরাসরি নদী থেকে বালু উত্তোলন করছেন। এতে রাস্তাটির বেহাল দশা হয়েছে। আমরা বহুবার সমাধানের চেষ্টা করেছি, কিন্তু সুফল পাইনি। যার যখন ক্ষমতা আসে, সে তখন নিজের মতো করে পরিস্থিতি ব্যবহার করেন।’

‎স্থানীয় বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম জানান, ধুলা-বালিতে গাছের পাতা ঢেকে যাচ্ছে, ফলে ফল ঠিকমতো বড় হচ্ছে না। বাঁধের ওপর দিয়ে ট্রাক চলাচলে জমির মাটির গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে। আগের মতো ফসল ফলছে না।

‎ভ্যানচালক গোলজার রহমান জানান, রাস্তায় বালু ফেলে রাখার কারণে তিনি ঠিকমতো ভাড়া ধরতে পারছেন না। খালি ভ্যান চালানোও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। তার আক্ষেপ, ‘আমরা গরিব মানুষ, আমাদের কথা কে শুনবে?’

‎স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ ও বাঁধের ওপর ভারী যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ না করলে একদিকে যেমন কোটি টাকার এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হুমকির মুখে পড়বে, অন্যদিকে কৃষি নির্ভর এ অঞ্চলের মানুষের জীবিকা মারাত্মক সঙ্কটে পড়বে।

‎এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আশরাফুল কবীর জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

‎অন্যদিকে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) গাইবান্ধা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: শরিফুল ইসলাম নয়া দিগন্তকে জানান, বাঁধের ক্ষতির বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তে সত্যতা মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।