ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় আবারো পাহাড়ি কাঠ পাচার চক্রের বড় একটি চালান উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) উপজেলার খিরাম ইউনিয়নের সর্তাখাল-মগকাটা সংলগ্ন একটি খাল থেকে এসব কাঠ উদ্ধার করা হয়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অবৈধ কাঠ পাচার রোধে সেনাবাহিনীর পরিচালিত এ অভিযানে একটি সংঘবদ্ধ চোরাচালান চক্রের সক্রিয়তার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
সেনা সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে লক্ষ্মীছড়ি ৩২ ফিল্ড রেজিমেন্ট ও হাটহাজারীতে টহলরত সেনা সদস্যরা যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে খালের পানিপথ ব্যবহার করে পাচারের সময় সেগুন ও গামারি গাছের মোট ৫৩০ খণ্ড অবৈধ কাঠ জব্দ করা হয়। উদ্ধার কাঠের পরিমাণ আনুমানিক ১ হাজার ৬০ সিএফটি, যার বাজারমূল্য প্রায় ৪ লাখ ৭৭ হাজার টাকা বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ি এলাকা থেকে গাছ কেটে এখাল পথকে রুট হিসেবে ব্যবহার করে যাচ্ছে।
সেনা সূত্র আরো জানায়, উদ্ধার কাঠ আইনানুগ প্রক্রিয়ায় বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একইসাথে কাঠ পাচার চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, গাড়িটানা, ধুরং ও সর্তা এলাকার পাহাড়ের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে অবৈধভাবে গাছ কেটে এ চোরাচালান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল। এ কাজে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী জড়িত থাকতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে রাতের আঁধারে পাহাড়ে গাছ কাটা ও কাঠ পরিবহনের অভিযোগ থাকলেও বন বিভাগ ও প্রশাসনের তেমন কোনো দৃশ্যমান তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়নি। ফলে সেনাবাহিনীর এ অভিযানে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
এ ঘটনায় ফটিকছড়ির পাহাড় ও বনাঞ্চলে অবৈধ কাঠ পাচার বন্ধে নিয়মিত যৌথ অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন পরিবেশবাদী সংগঠন ও স্থানীয় সচেতন মহল।



