সিলেটে ইমামদের নিয়ে ‘মিট অ্যান্ড গ্রিট’ অনুষ্ঠিত

সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে ইমামদের এগিয়ে আসতে হবে : মু. ফখরুল ইসলাম

‘সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনয়ন, মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং দাওয়াহ ও সামাজিক নেতৃত্বে ইমামদের ভূমিকা আরো বেগবান করতে হবে।’

এমজেএইচ জামিল, সিলেট ব্যুরো

Location :

Sylhet
সিলেটে ইমামদের নিয়ে ‘মিট অ্যান্ড গ্রিট’ অনুষ্ঠিত
সিলেটে ইমামদের নিয়ে ‘মিট অ্যান্ড গ্রিট’ অনুষ্ঠিত |নয়া দিগন্ত

সিলেট উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ভাইস চেয়ারম্যান ও ‘ড্রিমস অ্যান্ড হোপ সোশ্যাল অর্গানাইজেশন সিলেট’-এর উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেছেন, ‘সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনয়ন, মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং দাওয়াহ ও সামাজিক নেতৃত্বে ইমামদের ভূমিকা আরো বেগবান করতে হবে। সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে সবার সম্মিলিত সহযোগিতার বিকল্প নেই। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং নিজ নিজ অবস্থান থেকে সামাজিক কল্যাণে এগিয়ে এলে সমাজ উপকৃত হয় ও সামাজিক বন্ধন দৃঢ় হয়।’

তিনি সোমবার (২৭ জুলাই) রাতে নগরীর জিন্দাবাজারস্থ একটি অভিজাত হোটেলে ‘ড্রিমস অ্যান্ড হোপ সোশ্যাল অর্গানাইজেশন সিলেট’-এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ‘মিট অ্যান্ড গ্রিট উইথ ইমামস’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওই কথা বলেন।

সভায় সিলেটের বিভিন্ন এলাকার বাছাইকৃত অর্ধশতাধিক ইমাম অংশ নেন। ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানবকল্যাণে ইমামদের আরো সক্রিয় ভূমিকা, পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ নিয়ে এতে প্রাণবন্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

‘ড্রিমস অ্যান্ড হোপ সোশ্যাল অর্গানাইজেশন সিলেট’-এর চেয়ারম্যান ও ফিলিপাইনস ক্রিশ্চিয়ান ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ওয়াদুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখে জালাল জামেয়া দ্বীনিয়া আলিম মাদরাসা জামে মসজিদ, জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জের খতীব মাওলানা মাহমুদুর রহমান দিলাওয়ার ও জালালাবাদ ইমাম ফাউন্ডেশন সিলেটের সেক্রেটারি হাফিজ মাওলানা মাহবুবুর রহমান।

সংগঠনের সেক্রেটারি আশরাফুল ওয়াদুদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রিন্সিপাল রেজাউল করিম ও সংগঠনের প্রজেক্ট ডিরেক্টর শামছুর রহমান জাবাল। শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত করেন প্রিন্সিপাল হাফিজ মাওলানা জাকারিয়া মাহমুদ।

সভায় ‘কমিউনিটি লিডারশিপ, দাওয়াহ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ফিলিপাইনস ক্রিশ্চিয়ান ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ওয়াদুদ।

সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, একজন ইমাম কেবল মসজিদের ইমামতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নন; তিনি সমাজের নৈতিক পথপ্রদর্শক, শিক্ষক ও সামাজিক নেতা। মানুষের হৃদয়ে ঈমান, নৈতিকতা ও মানবিক দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তুলতে তাদের ভূমিকা অনন্য।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, তরুণ প্রজন্মকে ভালোবাসা, প্রজ্ঞা ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে ইসলামের সৌন্দর্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে। একই সঙ্গে মসজিদগুলোকে জ্ঞান, ভ্রাতৃত্ব ও মানবিক চর্চার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানের সমন্বয়ক ও বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা মাহমুদুর রহমান দিলাওয়ার তার বক্তব্যে মানবকল্যাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান এবং অংশগ্রহণকারী ইমামদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

সভা শেষে অংশগ্রহণকারী ইমামদের সম্মানে নৈশভোজের আয়োজন করা হয়।