পাবনার ঈশ্বরদীতে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ ও গোলাগুলি, অফিস, মোটরসাইকেল ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রনব কুমারসহ উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধশত জন আহত হয়েছেন।
সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে ঈশ্বরদী শহরের রেলগেট ও পোস্ট অফিস মোড়সহ আশপাশের এলাকায় পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব মেহেদী হাসানের কর্মী সমর্থকদের মাঝে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। নেতাকর্মীদের মারধর, অফিস ভাঙচুর, লুটপাটসহ নানা অভিযোগে এনে দুই গ্রুপের পক্ষ থেকে সকালে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। পরে দুই গ্রুপের লোকজন শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করলে এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা করলেও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ এবং সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার পর শহর জুড়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা রয়েছে। এ ছাড়া সেনাবাহিনীর একটি টিম টহল দিচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জাকারিয়া পিন্টুর পক্ষে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল এবং সংবাদ সম্মেলন করায় হাবিবুর রহমান হাবিব গ্রুপের নেতাকর্মীরা পাল্টা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। হাবিবের পক্ষে জোবায়ের হোসেন বাপ্পির আর্থিক সহযোগিতায় বের হওয়া বিক্ষোভ মিছিলের ব্যানারে জাকারিয়া পিন্টু, তার ভাই জুয়েল, সোনা মনি ও মেহেদীকে সন্ত্রাসী উল্লেখ করা হয়। এ সময় সংবাদ সম্মেলন শেষ করে মেহেদী হাসান দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রেস ক্লাব থেকে বের হয়ে নিজ এলাকায় ফিরছিলেন। পথে উভয় গ্রুপ রেলগেট এলাকায় মুখোমুখি হয়ে যায়। এ সময় হাবিব গ্রুপের পক্ষ থেকে জাকারিয়া পিন্টুর ছোট ভাই মেহেদী হাসানকে লক্ষ্য করে গুলি বর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর উভয় গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়।
আহতরা হলেন হাবিব গ্রুপের সদ্য সমাপ্ত হওয়া সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের নিবার্চন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক সাবেক ছাত্রনেতা মাহাবুবুর রহমান পলাশ, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম রকি, ছাত্রনেতা নুরে আলম শ্যামল, লিটন, জাকারিয়া, আলমগীর, নাজমুল, নাসির, চঞ্চল, নান্টু, সেন্টু, আশরাফুজ্জামান, কামরুল ইসলাম ।
আর জাকারিয়া পিন্টু গ্রুপের মনোয়ার, রাজিব, অন্তর, কবির, পলাশ, আক্তার, শরিফ, শিহাব, ফজলু, জুয়েলসহ ১০-১২ জন আহত হয়েছেন। এরা সবাই স্বেচ্ছাসেবকদল, যুবদল ও ছাত্রদল কর্মী।
ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার জানান, স্থানীয় বিএনপির বিবদমান দুটি গ্রুপের পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল হওয়ায় সংঘর্ষ এড়াতে হাবিব গ্রুপের মিছিলটিকে থানার সামনের ইউটার্ন ঘুরে পোস্ট অফিস মোড়ে চলে যেতে অনুরোধ করা হয়। কিন্তু তারা পুলিশকে ধাক্কা দিয়ে এবং তাদের অনুরোধ উপেক্ষা করে রেলগেটে গেলে পিন্টু গ্রুপের লোকজনের সাথে সংঘর্ষ বাঁধে। উভয় গ্রুপকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ অন্তত ৮-১০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে আমি নিজেও আঘাতপ্রাপ্ত হই।
এ ঘটনায় উভয় গ্রুপ একে অপরকে দোষারোপ করে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য দিয়েছে।
পাবনা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টুর ছোট ভাই ও স্বেচ্ছাসেবক দলের মেহেদী হাসান অভিযোগ করে বলেন, পুলিশের একমুখী (হাবিবের পক্ষে পক্ষপাত) অবস্থানের কারণে নির্বাচনের পর থেকে ঈশ্বরদীতে আইন শৃঙ্খলার অবনতি হচ্ছে। তিনি বলেন আজ (সোমবার) আমাকে উদ্দেশ্য করে পুলিশ গুলি করেছে।
এদিকে সাবেক ছাত্রনেতা (হাবিব গ্রুপ) রফিকুল ইসলাম নয়ন অভিযোগ করে জানান, আমাদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশের উপস্থিতিতে জাকারিয়া পিন্টুর লোকজন আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এ সময় উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম রকি, যুবদল নেতা শ্যামল, আলম গুরুতর আহতসহ ২৫/৩০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ঈশ্বরদী পোস্ট অফিস মোড়ের দলীয় কার্যালয় এবং ২০/২৫টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও ৪/৫টি মোটরসাইকেলে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।
এ দিকে উভয় গ্রুপই পুলিশের ভুমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।
ঈশ্বরদীর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মমিনুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, 'শহরের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে, সতর্ক নজর রাখছে পুলিশ। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ছোড়া ইট পাটকেলের আঘাতে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। ঈশ্বরদীর বিভিন্ন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।'



