ঈদের দিন থেকেই পর্যটনগুলোতে উপচেপড়া ভীড়

সবুজ পরিবেশ, নির্মল হ্রদ, মনোরম ঝরণা, সমুদ্র সৈকত প্রকৃতিপ্রেমী পর্যটকদের কাছে টানছে। দর্শনার্থীরা দিন দিন এই উপজেলার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছেন।

এম মাঈন উদ্দিন, মিরসরাই (চট্টগ্রাম)

Location :

Mirsharai
পর্যটকদের ভীড়
পর্যটকদের ভীড় |নয়া দিগন্ত

ঈদের দিন বিকেল থেকে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে ভীড় লক্ষ করা গেছে। ছুটি পেয়ে অনেকে ছুটে যাচ্ছেন প্রকৃতির কাছে। প্রিয়জনদের নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন ইচ্ছেমতো। উপজেলার দেড়ডজন পর্যটন কেন্দ্রে মানুষের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে। তারা পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও সহপাঠীদের নিয়ে ছুটে যাচ্ছেন এসব কেন্দ্রে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এবারের ছুটিতে উপজেলার প্রায় ১৮টি পর্যটন কেন্দ্র ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে অন্যতম আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। সবুজ পরিবেশ, নির্মল হ্রদ, মনোরম ঝরণা, সমুদ্র সৈকত প্রকৃতিপ্রেমী পর্যটকদের কাছে টানছে। দর্শনার্থীরা দিন দিন এই উপজেলার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছেন।

মিরসরাইয়ের ১৮টি পর্যটন কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে মুহুরী প্রজেক্ট, ডোমখালী সমুদ্র সৈকত, শিল্পজোন বসুন্ধরা পয়েন্ট সমুদ্র সৈকত, সকল বয়সী ভ্রমণ পিপাসুদের বিনোদনের অন্যতম আকর্ষণ আরশি নগর ফিউচার পার্ক, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কৃত্রিম লেক মহামায়া সেচ প্রকল্প ও হৃদ, আটস্তর বিশিষ্ট জলপ্রপাত খৈয়াছড়া ঝরণা, রূপসী ঝরণা, বাওয়াছড়া প্রকল্প, বোয়ালিয়া ঝরণা, জাতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের মেরিনড্রাইভ সড়কের পাশে উপকূলীয় বন, হিলসডেল মাল্টি ফার্ম অ্যান্ড মধুরিমা রিসোর্ট ও মেলখুম ট্রেইল। এবারের ঈদে এখানকার পর্যটন কেন্দ্রগুলো হয়ে উঠেছে আরো মুখর।

ঈদের দিন বিকেল থেকে আরশিনগর ফিউচার পার্কে মানুষের ভিড় দেখা গেছে। সব বয়সী মানুষ সেখানে বেড়াতে এসেছেন। ছবি তুলছেন, গল্প করছেন। বিশেষ করে বেশি আনন্দ করতে দেখা গেছে শিশুদের। বিভিন্ন রাইডসে চড়তে দেখা গেছে তাদের। অনেক শিশু বিভিন্ন জীবের আকৃতির সাথে ছবি তুলছেন।

পর্যটক দেখা গেছে মহামায়া ইকোপার্কে। শিশু থেকে বৃদ্ধ সব বয়সী মানুষ একটু বিনোদন পেতে এখানে ছুটে যাচ্ছেন। পর্যটকদের আনাগোনায় অনেকটা আগের চিরচেনা রূপে ফিরেছে এই পর্যটন কেন্দ্রটিতে।

এছাড়া ডোমখালী ও বসুন্ধরা সমুদ্রসৈকতে ছুটে যাচ্ছে মানুষ। অপরূপ সৌন্দর্যে ঘেরা এক স্থান ডোমখালী।

উপজেলার আরেক কৃত্রিম লেক বাওয়াছড়ায় যাচ্ছেন লোকজন। ঈদের ছুটিতে ঘরে বসে না থেকে দর্শনার্থীরা ছুটে যাচ্ছেন এসব স্পটে। বাওয়াছড়া লেক স্থানীয়ভাবে নীলাম্বর লেক নামেও পরিচিত। এখানে দু’পাশের সুউচ্চ পাহাড় থেকে পানির অবিরাম লেকে গড়িয়ে পড়ার দৃশ্য ও শব্দ পর্যটকদের সব ক্লান্তি মুহূর্তেই দূর করে দেয়।

উপজেলার ঝরনাগুলোর রাস্তায় দাঁড়ানো গাড়ি দেখে বুঝা যায় কী পরিমাণ ভ্রমণপিপাসু লোকজন ঝরণায় ছুটে গেছেন। এভাবে মিরসরাইয়ের প্রতিটি পর্যটন কেন্দ্রে ছুটে যাচ্ছে মানুষ। কয়েকটি স্পটে শুধুমাত্র ইজারার কারণে টিকেট সংগ্রহ করে যেতে হয়। বেশিরভাগ পর্যটন স্পটই উন্মুক্ত।

চট্টগ্রাম শহর থেকে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘সারা বছর ব্যস্ত থাকতে হয়। ঈদে ছুটি পেয়েছি ছয় দিনের। তাই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মহামায়ায় বেড়াতে এসেছি। বাচ্চারাও খুব মজা করছে। আমাদের কাছেও ভালো লাগছে।’

মিরসরাই উপজেলার ইছাখালী ইউনিয়ন থেকে মুহুরী প্রজেক্টে বেড়াতে আসা কাউসার আহমেদ বলেন, ‘নতুন বিয়ে করেছি। মুহুরী প্রজেক্ট আমার অনেকবার আসা হলেও আমার স্ত্রী প্রথমবার বেড়াতে এসেছে। তার কাছে ভালো লাগছে।’

আরেক পর্যটক রুহুল আমিন বলেন, ‘সবকিছু ঠিক আছে, শুধুমাত্র জোরারগঞ্জ থেকে প্রজেক্ট যাওয়ার রাস্তাটি বাঁশখালী বাজার পর্যন্ত খুব বাজে অবস্থা। মানুষ অনেক কষ্ট করে এই রাস্তা দিয়ে মুহুরী প্রজেক্টে যাওয়া-আসা করে।’

মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোমাইয়া আক্তার বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে উপজেলার বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে লোকজনের আনাগোনা বেড়েছে। ঝরণায় বিশেষ সতর্কতার সাথে আসা-যাওয়া করতে বলা হয়েছে। গাইড ছাড়া কেউ যেন ঝরনায় না যায় সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেয়া আছে।’