বহুপ্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা–২০ (ধামরাই) আসনে ছয়জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মধ্যে তিনজন বাতিল ভোটের চেয়েও কম ভোট পেয়েছেন। তারা হলেন—জাতীয় পার্টির আহসান খান আছু (লাঙ্গল), বাংলাদেশ জাসদের আরজু মিয়া (মোটরগাড়ি-কার) এবং এবি পার্টির হেলাল উদ্দিন (ঈগল)। অত্যন্ত কম ভোট পাওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
ভোটের মাঠে লড়াই করেছেন ছয়জন প্রার্থী। তবে নির্বাচনী ময়দান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ধানের শীষের প্রার্থীর সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করার মতো কোনো শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল না।
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের তুলনায় রাজনৈতিক ও জনসমর্থনের দিক থেকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ তমিজ উদ্দিন (ধানের শীষ) অনেক এগিয়ে ছিলেন বলে ভোটাররা তার বিজয়কে নিশ্চিত বলেই ধরে নিয়েছিলেন।
ঢাকা–২০ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৬৩৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮৭ হাজার ৮৩৫ জন, মহিলা ভোটার ১ লাখ ৮৮ হাজার ৮০২ জন এবং হিজড়া ভোটার ২ জন। এর মধ্যে মোট ২ লাখ ৩৫ হাজার ৭২৩ জন ভোটার ভোট দেন। প্রদত্ত ভোটের মধ্যে ৬ হাজার ১১৭টি ভোট বাতিল বলে গণ্য হয়েছে।
এ আসনে ছয়জন প্রার্থীর মধ্যে বিএনপির তমিজ উদ্দিন (ধানের শীষ) পেয়েছেন ১ লাখ ৬০ হাজার ৪২৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের এনসিপির ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ (শাপলা কলি) পেয়েছেন ৫৬ হাজার ৩৪৩ ভোট। খেলাফত মজলিসের মুফতি আশরাফ আলী (দেয়াল ঘড়ি) পেয়েছেন ৯ হাজার ৮৩ ভোট।
অপরদিকে জাতীয় পার্টির আহসান খান আছু (লাঙ্গল) পেয়েছেন ৩ হাজার ৭৬ ভোট। বাংলাদেশ জাসদের আরজু মিয়া (মোটরগাড়ি-কার) পেয়েছেন ১৯৮ ভোট এবং এবি পার্টির হেলাল উদ্দিন (ঈগল) পেয়েছেন মাত্র ৪৭৮ ভোট। সব মিলিয়ে এই তিন প্রার্থী বাতিল ভোটের চেয়েও কম ভোট পেয়েছেন। ফলে তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
বাংলাদেশ জাসদের প্রার্থী আরজু মিয়া মনোনয়নপত্র দাখিলের পর থেকেই প্রচার-প্রচারণায় সক্রিয় ছিলেন না। এবি পার্টির প্রার্থী হেলাল উদ্দিন কিছুটা প্রচারণা চালালেও মাঠ গোছাতে পারেননি।
স্থানীয় ভোটারদের মতে, বিএনপি প্রার্থীর বাইরে অন্য প্রার্থীদের সুসংগঠিত কোনো ভোটব্যাংক ছিল না। ১১ দলীয় জোটের এনসিপির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদের ব্যক্তিগত বা দলীয় ভোট তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি। কারণ, ১১ দলীয় জোটে উন্মুক্ত প্রার্থী থাকায় ভোটারদের মধ্যে বিভাজন ছিল বলে তারা মনে করেন। অনেকের ধারণা, ১১ দলীয় জোটে জামায়াতের একক প্রার্থী থাকলে লড়াই কিছুটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে পারত। তবে এনসিপির প্রার্থী থাকলেও তা বিএনপির বিশাল ভোটব্যাংকের তুলনায় নগণ্য ছিল।
নির্বাচনী মাঠে ফুরফুরে মেজাজে ছিলেন বিএনপি প্রার্থী তমিজ উদ্দিন। তিনি বলেন, “বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে জনগণ ভোট দিতে পারেনি। এবার তারা সেই সুযোগ পেয়েছে এবং ধানের শীষে ভোট দেওয়ার জন্য মুখিয়ে ছিল। তাই ১৪৭টি কেন্দ্রেই ধানের শীষের বিজয় হয়েছে।”



