সিলেট সদর উপজেলায় ৪৯ বছর আগে বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের খনন করা বাসিয়া খাল (বাসিয়া নদী) পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ শনিবার দুপুর ১টার দিকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে বাসিয়া খাল খনন করেন তিনি। এ সময় বিপুল সংখ্যক এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে প্রথমবার বাসিয়া খাল খনন করেন। এসময় তার সাথে খাল খনন করেছেন এমন তিনজন প্রবীণ ব্যক্তিও তারেক রহমানের খাল খননের সময় উপস্থিত ছিলেন। তারা তারেক রহমানের কাছে তাদের ৪৯ বছর আগে জিয়াউর রহমানের সাথে খাল খননের স্মৃতি রোমন্থন করেন।
তারা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ৪৯ বছর আগে নভেম্বরের সেই দিনের জিয়ার সাথে খাল খননের সেই স্মৃতি এখনো অম্লান হয়ে আছে। সেদিনের মতো আজও এলাকায় আনন্দ উচ্ছ্বাস দেখা গেছে বলে মনে করেন এই প্রবীণরা।
বাসিয়া খাল খননের সময় উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, সংসদ সদস্য আ্যডভোকেট এমরান আহমেদ চৌধুরী, সংসদ সদস্য আবদুল মালিক, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকীসহ নেতৃবৃন্দ।

সিলেটের চার উপজেলা দিয়ে প্রবাহিত বাসিয়া নদী। সুরমা থেকে উৎপত্তি হয়ে এটি মিশছে কুশিয়ারা নদীতে। উৎসমুখ সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের মাশুকগঞ্জ বাজারে। ১৯৭৭ সালে এখানে প্রথম খননকাজ শুরু হয়, যার উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।
সেই খননের পর কৃষিক্ষেত্রে নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছিল। সেচ সুবিধার কারণে বাসিয়াপারে চাষবাস ব্যাপকভাবে সমৃদ্ধ হয়। নদীতীরের অনাবাদি জমিসহ বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলের ফসল উৎপাদন বাড়ে।
সিলেট সদর, দক্ষিণ সুরমা, ওসমানীনগর ও বিশ্বনাথ উপজেলার বরাক, চাউলধনী, ছালীয়া, মউডুবী ও দয়ালং হাওরের প্রায় ১০ হাজার হেক্টর কৃষিজমির সেচসঙ্কট প্রাকৃতিকভাবেই দূর হয়।
তবে পরে রাষ্ট্রক্ষমতার পালাবদলে খননের ধারাবাহিকতা রক্ষা হয়নি। ফলে চাষাবাদে সঙ্কট দেখা দেয়। নদীটিও দখল-দূষণে মৃত খালে রূপ নেয়।

প্রায় ৪৯ বছর পর এবার সরকারপ্রধানের হাতে নদী খননের পরিকল্পনার সূচনা হলো। প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে বাসিয়াপার এলাকায় যেন ফিরে এসেছে আগের সেই আনন্দ!
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, নদীর প্রায় ২৩ কিলোমিটার অংশ খনন করা হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য এবং শিল্প-বাণিজ্য, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি জানান, মাশুকগঞ্জ বাজার থেকে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পর্যন্ত খননকাজ চলবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৯০ হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন। পাশাপাশি শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হওয়ায় প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে অতিরিক্ত ফসল উৎপাদনের সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
সিলেটে পৌঁছে শনিবার সকালে তুমুল বৃষ্টির মধ্যে সিলেট নগরকে বন্যা ও জলাবদ্ধতার হাত থেকে বাঁচাতে ও পর্যটন নগরীকে নান্দনিকভাবে গড়ে তুলতে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্প উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে তিনি সিসিক আয়োজিত সুধী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।
বিকেল ৩টায় প্রধানমন্ত্রী সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের উদ্বোধন করবেন। এরপর বিকেল ৫টায় বিএনপির দলীয় সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন তারেক রহমান।



