রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দির নবাবপুর ইউনিয়নের সদাশিবপুর গ্রামের মো: নাছির শেখ নামে এক প্রবাসীর বাড়িতে যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী ও আওয়ামী লীগের নেতা প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রবাসীর পরিবারসহ একাধিক বাসিন্দা। প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগী পরিবার লিখিত অভিযোগ করেছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তারা ওই রাস্তা দিয়ে বাড়িতে যাতায়াত করে আসছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি রাস্তার ওপর বেড়া দিয়ে চলাচল বন্ধ করে দেন প্রতিবেশী মো: ফজলু শেখ। এতে পরিবারের সদস্যদের বাড়িতে প্রবেশ ও বের হতে চরম সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সৌদি আরব প্রবাসী মো: নাছির শেখের ভাই মরহুম আবু বক্কার শেখ ১৯৯৪ সালে ১০ দশমিক ২৫ শতাংশ জমি প্রতিবেশী মরহুম আবু সাত্তার শেখের কাছ থেকে দলিল করে নেন। এরপর থেকে নাসির ওই জমি ভোগদখল করে আসছিলেন। সেই জমির ওপর দিয়ে তাদের চলাচলের রাস্তা করা আছে।
সম্প্রতি মরহুম আবু বক্কার শেখের ভাতিজা ফজলু শেখ ও তার ছেলে সোহাগ শেখ প্রভাব খাটিয়ে রাস্তার ওপর বাঁশ ও টিনের বেড়া দিয়ে পথ বন্ধ করে দেন। পরে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগী নাছির শেখের স্ত্রী বলেন, ‘আমার স্বামী প্রবাসে থাকেন। আমি ছেলেদের পড়ালেখার সুবিধার্থে রাজবাড়ী থাকি। মাঝে মাঝে বাড়িতে থাকি। আমাদের বড় পরিবার সবাই যার যার মতো ঘর করে নিয়েছে। আমরা নতুন করে বাড়ি করার জন্য মাটি ফেলেছি ফজলু শেখের বাড়ির পাশে। হঠাৎ করে ফজলু শেখ আমাদের বাড়ি থেকে বের হওয়ার রাস্তা আটকে দিয়েছেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘নির্বাচনের পরে ফজলু শেখের ছেলে সোহাগ শেখ আমার কাছে পাঁচ হাজার টাকা দাবি করে। সে বলে তাদের প্রার্থী এমপি হয়েছে, তাই পিকনিক করার জন্য টাকা দিতে হবে। আমি তখন দিতে রাজি না হলে হুমকি দেয়, এখানে বসবাস করতে দেবে না। এরপরেই রাস্তা আটকে দিয়েছে। এমনকি আমি বাড়ি আসলে আমার ছেলেদের মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে।’
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো: ফজলু শেখ দাবি করেছেন, রাস্তার জায়গাটি তার নিজস্ব জমির মধ্যে পড়েছে। তাই সেই রাস্তা আটকে দিয়েছেন।
এতো বছর কেনো রাস্তা আটকে দিলেন না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এখন ওনারা নতুন করে বাড়ি করবেন। এখন বন্ধ না করলে আমি আর জমি ফিরে পাবো না।’
আপনার ছেলে টাকা দাবি করেছে কি-না এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে পিকনিক করার জন্য অনেকের কাছ থেকে টাকা চেয়ে নিয়েছে। তবে এটা চাঁদা না।’
বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘চলাচলের রাস্তা আটকে দেয়ার লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে এসিল্যান্ডকে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।’



