অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক না হওয়া, সীমিত উড়োজাহাজ ও অপারেশনাল বাস্তবতার কারণে ঢাকা-সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটে ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। আগামী ১ মার্চ থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থাটি।
ম্যানচেস্টার রুটে ফ্লাইট স্থগিত নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন আলোচনা ও সমালোচনার প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) একটি ব্যাখ্যামূলক বিবৃতি দিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।
জনসংযোগ বিভাগের কর্মকর্তা বোসরা ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, যাত্রী ও সংশ্লিষ্ট সবার কাছে প্রকৃত অবস্থা তুলে ধরতেই এই ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ঢাকা-সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটটি বিমানের জন্য অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক নয়। একইসাথে ইউরোপ, হজ ও মধ্যপ্রাচ্যের রুটে সীমিতসংখ্যক ওয়াইড-বডি উড়োজাহাজ বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার ও বোয়িং ৭৭৭ ব্যবহার করতে হচ্ছে। দীর্ঘপথের এই রুটে একটি উড়োজাহাজ একাধিক দিন ব্যস্ত থাকায় বহর ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়।
হজ মৌসুমে স্বল্প সময়ের মধ্যে বিপুলসংখ্যক যাত্রী পরিবহনের জন্য অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনার প্রয়োজন পড়ে বলেও জানানো হয়। এ কারণে অপারেশনাল বাস্তবতায় অন্যান্য রুটের ফ্লাইট ফ্রিকোয়েন্সি সমন্বয় করা জরুরি হয়ে পড়ে।
এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রুটে প্রবাসী শ্রমিক ও ওমরাহ যাত্রীদের চাহিদা তুলনামূলকভাবে বেশি। ফলে সীমিত বহরকে অধিক চাহিদাসম্পন্ন ও কার্যকর রুটে ব্যবহারের প্রয়োজন দেখা দেয় বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
বিমানের পক্ষ থেকে আরো জানানো হয়, নিয়মিত সি-চেক, ইঞ্জিন ওভারহল ও কাঠামোগত পরিদর্শনের সময় এক বা একাধিক উড়োজাহাজ সপ্তাহ কিংবা মাসের জন্য পরিসেবার বাইরে চলে যায়। এতে উড়োজাহাজ সঙ্কট আরো প্রকট হয়। একইসাথে বৈশ্বিকভাবে ক্রু সঙ্কট থাকায় দীর্ঘপথের ফ্লাইট পরিচালনা ক্রু ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে যাত্রীসেবার ধারাবাহিকতা, অপারেশনাল স্থিতিশীলতা ও সীমিত বহরের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে ঢাকা-সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটে ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। যাত্রীদের সম্ভাব্য ভোগান্তি কমাতে লন্ডন রুটে ফ্লাইট ফ্রিকোয়েন্সি বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে সপ্তাহে মোট পাঁচটি ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে, যার মধ্যে চারটি সিলেট হয়ে লন্ডন এবং একটি সরাসরি ঢাকা-লন্ডন রুটে।
এছাড়া ম্যানচেস্টার রুট স্থগিতের পূর্বঘোষিত সময় ১ ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে ১ মার্চ নির্ধারণ করা হয়েছে। যাত্রীদের জন্য কোনো অতিরিক্ত চার্জ ছাড়াই টিকিট রিফান্ড, ফ্লাইট পরিবর্তন কিংবা লন্ডন হয়ে যাত্রার সুযোগ রাখা হয়েছে। সুবিধাজনক অন্য তারিখে ফ্লাইট পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত ফি প্রযোজ্য হবে না।
ম্যানচেস্টার রুট সাময়িকভাবে স্থগিত থাকায় যেসব যাত্রী ও সংশ্লিষ্ট পক্ষ অসুবিধার সম্মুখীন হয়েছেন, তাদের কাছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে।
বিবৃতিতে আরো জানানো হয়, নতুন উড়োজাহাজ ক্রয় ও অতিরিক্ত ক্রু নিয়োগের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এসব কার্যক্রম সম্পন্ন হলে ভবিষ্যতে ম্যানচেস্টার রুটে পুনরায় ফ্লাইট চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে এবং যথাসময়ে তা জানানো হবে।



