মব করে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার অভিযোগ উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিবের বিরুদ্ধে

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় মব করে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব জয়নাল পাটোয়ারীর (পিনু) বিরুদ্ধে।

মতলব উত্তর (চাঁদপুর) সংবাদদাতা

Location :

Matlab Uttar
মতলব উত্তর ছাত্রদলের সদস্য সচিব জয়নাল পাটোয়ারীর (পিনু)
মতলব উত্তর ছাত্রদলের সদস্য সচিব জয়নাল পাটোয়ারীর (পিনু) |নয়া দিগন্ত

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় মব করে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব জয়নাল পাটোয়ারীর (পিনু) বিরুদ্ধে।

সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে উপজেলার এখলাসপুর ইউনিয়নের হাসিমপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাসিমপুর গ্রামের মো: আলমের ছেলে ফারাবী মিনহাজ পাশের মতলব দক্ষিণ উপজেলা থেকে দশম শ্রেণী পড়ুয়া একটি মেয়েকে এনে তার বাড়িতে রেখেছেন। যেখানে তার বাবা মা একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে বাড়ির বাইরে ছিলেন। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। এতে করে এলাকাবাসী ছেলে এবং মেয়েকে আটক করে চেয়ারম্যান কে খবর দেয়। চেয়ারম্যান ঘটনাস্থলে আসার আগে ছেলেটি এলাকা থেকে পালিয়ে যায়।

এ বিষয়ে এখলাসপুরের ইউপি চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলাম মুন্না ঢালী জানান, খবর পাই যে- পাশের উপজেলা থেকে হাসিমপুর এলাকায় এক তরুণ এক তরুণীকে নিয়ে এসেছে। তথ্যটি পাওয়ার পরপরই আমি দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। তবে সেখানে গিয়ে অভিযুক্ত তরুণকে পাওয়া যায়নি। আমি তাৎক্ষণিকভাবে ভুক্তভোগী তরুণীটিকে উদ্ধার করি এবং আমাদের স্থানীয় এক নারী ইউপি সদস্যের হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেই।

এ সময় তরুণীটি আমার কাছে অভিযোগ করেন যে, তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একটি খালি বাড়িতে এনে ধর্ষণ করা হয়েছে। বিষয়টি জানার পর আমি আইনি সহায়তার জন্য দ্রুত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাথে যোগাযোগ করি এবং ওসির নির্দেশে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। কিন্তু পুলিশ পৌঁছানোর আগেই পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন দিকে মোড় নেয়। উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব জয়নাল পাটোয়ারী পিনুর নেতৃত্বে একদল লোক হঠাৎ ঘটনাস্থলে এসে বিশৃঙ্খলা ও মব সৃষ্টি করে।

তারা ভুক্তভোগী তরুণীকে জোরপূর্বক টেনেহিঁচড়ে সেখান থেকে তুলে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে পুলিশ এসে ওই তরুণী বা অভিযুক্ত—কাউকেই আর খুঁজে পায়নি।

এ বিষয়ে উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব জয়নাল পাটোয়ারী (পিনু) জানান, খবর পাই যে, পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকে হাসিমপুর এলাকায় এক তরুণ এক তরুণীকে নিয়ে এসেছে। এ বিষয়ে স্থানীয় লোকজন দুজনকে আটক করেছে, এই ঘটনায় মেয়ের মায়ের সাথে কথা বলে মেয়েকে তার চাচাতো ভাইয়ের হাতে উঠিয়ে দেই।

এ বিষয়ে মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুল হাসান জনান, এখলাসপুরের ইউপি চেয়ারম্যান আমাকে ফোন দিয়ে জানিয়েছিল একটি মেয়েকে আটক করে রাখা হয়েছে, কিন্তু পরবর্তীতে পুলিশ গিয়ে কাউকে পায়নি, এ বিষয়ে মেয়ের পরিবার যদি কোন অভিযোগ দেয় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।