কুমিল্লায় রেস্টুরেন্টে ভুলে ফেলে যাওয়া পাকিস্তানি শিশুকে ফিরে পেল পরিবার

প্রায় ১৫ সদস্যের ওই পরিবারটি চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর কর্মচারীরা রেস্টুরেন্টের ভেতরে একা একটি শিশুকে দেখতে পান। শিশুটি নিজের পরিচয় বা পরিবারের কোনো তথ্য বলতে পারছিল না।

কুমিল্লা প্রতিনিধি

Location :

Cumilla
পাকিস্তানি শিশুটিকে তার বাবার কাছে হস্তান্তর করছে প্রশাসন
পাকিস্তানি শিশুটিকে তার বাবার কাছে হস্তান্তর করছে প্রশাসন |নয়া দিগন্ত

কুমিল্লার একটি রেস্টুরেন্টে ভুলবশত ফেলে যাওয়া পাকিস্তানি এক শিশুকে উদ্ধার করে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে প্রশাসন ও পুলিশ। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

শনিবার (২৭ জুন) সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার মোস্তফাপুরে অবস্থিত হোটেল জাইতুনে এ ঘটনা ঘটে।

পরে দুপুরে সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুজন চন্দ্র রায়ের উপস্থিতিতে শিশুটিকে তার বাবা পাকিস্তানি নাগরিক সালমানের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

জানা যায়, পাকিস্তানি নাগরিক সালমান তার পরিবার নিয়ে কক্সবাজার ভ্রমণে যাচ্ছিলেন। পথে তারা দু’টি ব্যক্তিগত গাড়িতে করে হোটেল জাইতুনে নাস্তার জন্য বিরতি নেন। নাস্তা শেষে তাড়াহুড়ার মধ্যে পরিবারের সদস্যরা ছোট্ট শিশু নাফিসাকে রেস্টুরেন্টেই রেখে চলে যান।

Comilla-Missing-Child222222

রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী লুৎফুর রহমান রিপন জানান, প্রায় ১৫ সদস্যের ওই পরিবারটি চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর কর্মচারীরা রেস্টুরেন্টের ভেতরে একা একটি শিশুকে দেখতে পান। শিশুটি নিজের পরিচয় বা পরিবারের কোনো তথ্য বলতে পারছিল না। পরে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, পরিবারের সদস্যরা অসাবধানতাবশত শিশুটিকে রেখে চলে গেছেন।

বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে সদর দক্ষিণ মডেল থানাকে জানানো হলে পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে নিরাপদ হেফাজতে নেয় এবং উপজেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করে।

এদিকে শিশুটিকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারটি চট্টগ্রামের কর্ণফুলী টানেল এলাকায় পৌঁছানোর পর বিষয়টি বুঝতে পারে। পরে তারা দ্রুত কুমিল্লার দিকে ফিরে আসে।

পুলিশের সহায়তায় উপজেলা প্রশাসন, সমাজসেবা অফিস ও শিশুটির পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে নাফিসাকে তার বাবার কাছে হস্তান্তর করা হয়।

সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুজন চন্দ্র রায় বলেন, শিশুটিকে সুস্থ ও নিরাপদ অবস্থায় তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে পেরে আমরা আনন্দিত। পরিবারটি পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন ও হোটেল কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।