বরগুনার আমতলীতে ১০ লাখ টাকা চাঁদা না দেয়ায় মো: শহীদুল ইসলাম খাঁন নামে এক ঠিকাদারকে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ ওঠেছে। ছাত্রদল আমতলী উপজেলার সদস্য সচিব ইমরান খাঁন ও তার অনুগত কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে হামালার শিকার ওই ঠিকাদার এ অভিযোগ করেন।
শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) রাত নয়টার দিকে আমতলী একে স্কুল চৌরাস্তায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী ঠিকাদার শহীদুল ইসলাম বলেন, গত জানুয়ারি মাসে উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ইমরান খাঁন আমার কাছে দশ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। কিন্তু আমি তার দাবি করা টাকা দিতে অস্বীকার করি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সে আমাকে প্রাণনাশের ও আমার স্ত্রী-সন্তানকে তুলে নেয়ার হুমকি দেয়। শুক্রবার রাত নয়টার দিকে আমি একে স্কুল চৌরাস্তায় একটি দোকানে বসে চা পান করছিলাম। এমন সময় ইমরান ও তার পালিত কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা আমার কাছে পুনরায় চাঁদা দাবি করে। আমি চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে আমাকে পিটিয়ে জখম করে। পরে স্থানীয়রা আমাকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। ওই হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরে বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেমেক) হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে তিনি ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা ইমরান খাঁন চাঁদা দাবির কথা অস্বীকার করে বলেন, ঠিকাদার শহীদুল ইসলাম ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের লোক হয়ে বিএনপিকে নিয়ে কটূক্তি করছিল। এ সময় সাকিব নামের এক ছাত্রদল কর্মী এর প্রতিবাদ করে। এ সময় তারা ক্ষুব্ধ হয়ে শহীদুল ইসলামকে মারধর করেছে। খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে সবাইকে নিবৃত করেছি। এখানে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
বরগুনা জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো: সানাউল্লাহ সানি বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। অভিযোগ পেলে, তদন্তে সত্যতা পেলে ইমরানের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা: রেদওয়ান ইসলাম শুভ বলেন, শহীদুল ইসলামকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বরিশাল শেমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গির হোসেনকে মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিয়েও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আমতলী-তালতলী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো: তারিকুল ইসলাম মাছুম বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।



