টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে রাঙ্গামাটিতে বন্যা ও পাহাড় ধসের আশঙ্কা অব্যাহত রয়েছে। রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম ও কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কে বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসের ফলে যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে।
কাপ্তাই হ্রদের পানি বেড়ে যাওয়ায় বাঘাইছড়ি প্লাবিত হলেও কাপ্তাই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে।
কয়েকদিনের অবিরাম বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে পাহাড় ঘেরা রাঙ্গামাটিতে এখন দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি। রাঙ্গামাটি পৌর শহরের শিমুলতলী, রূপনগর, নতুনপাড়া, রিজার্ভ বাজার ও ভেদভেদিসহ ২৮টি স্থানকে পাহাড় ধসপ্রবণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। অতীতের ভয়াবহ সব স্মৃতি থাকার পরও এখনো প্রায় ৫০ হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করছেন।
বুধবার রাতে ভূমি ও পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দিন চৌধুরী আশ্রয় কেন্দ্র পরিদশর্ন করেন এবং ত্রাণ বিতরণ করেন।
ইতোমধ্যে বাঘাইছড়িতে পাহাড় ধসে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। যেকোনো বড় বিপর্যয় এড়াতে জেলা প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস যৌথভাবে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাইকিং করছে।
এদিকে ৯ জুলাই বৃহস্পতিবার সকালে রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাপছড়ি এলাকায় পাহাড় ধস হয়। সকাল থেকে রাঙ্গামাটি চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। পরে সেনাবাহিনী সড়ক বিভাগ ও ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় মাটি সরিয়ে সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক করা হয়।
অন্যদিকে, বাঘাইছড়ির কাচালং নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় প্লাবিত হয়েছে মাস্টারপাড়া, বটতলী, বাঘাইহাটসহ বিস্তীর্ণ নিচু এলাকা। এছাড়া রাঙ্গামাটির সড়ক, মহাসড়ক, বসতী এলাকায় এ পর্যন্ত ৯৭টি পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
দুর্যোগ মোকাবিলায় রাঙ্গামাটি জেলা জুড়ে ৩৪টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। আর জানমালের ক্ষতি এড়াতে রাঙ্গামাটির ৩৪টি কেন্দ্রে ৪১৬৬ জন মানুষকে আশ্রকেন্দ্রে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। প্রশাসনের উদ্যোগে আশরা কেন্দ্রের তিন বেলা করে খাবার সরবরাহ করছে প্রশাসন।
রাঙ্গামাটিতে ভারী বর্ষণ যেমন একদিকে দুর্যোগ ডেকে এনেছে, অন্যদিকে কাপ্তাই হ্রদে পানির সঙ্কট কাটিয়ে নিয়ে এসেছে স্বস্তি। দীর্ঘ খরার পর লেকের পানির স্তর দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় সচল হয়েছে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সবকটি ইউনিট। বর্তমানে কেন্দ্রের ১ থেকে ৫ নম্বর পর্যন্ত সবকটি ইউনিট থেকে একযোগে রেকর্ড ১৪৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে, যা যুক্ত হচ্ছে জাতীয় গ্রিডে।
কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে হ্রদে পানির স্তর রয়েছে ৭৯ দশমিক ৮৬ ফুট এমএসএল। পাহাড়ি ঢলের এই ধারা অব্যাহত থাকলে লেকের পানির স্তর ধারণক্ষমতার সর্বোচ্চ ১০৮ ফুটে পৌঁছাবে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন আরো দীর্ঘস্থায়ী হবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।



