বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘জামায়াত ক্ষমতায় গেলে মায়েদের মর্যাদা বৃদ্ধি করা হবে এবং তারা নিজ নিজ ক্ষেত্রে পূর্ণ সম্মান ভোগ করবে। নারী-পুরুষের মধ্যকার বেতন বৈষম্য দূর করা হবে। একই কাজের জন্য নারী-পুরুষের ভিন্ন বেতন এই দেশে আর থাকবে না।’
তিনি বলেন, ‘সন্তান গর্ভে আসার পর থেকে জন্ম ও লালন-পালনের জন্য দুই থেকে আড়াই বছর নারীদের কর্মঘণ্টা পাঁচ ঘণ্টা নির্ধারণ করা হবে। বাকি তিন ঘণ্টা সন্তান লালনের জন্য বরাদ্দ থাকবে এবং সেই সময়ের বেতন সমাজসেবা অধিদফতরের মাধ্যমে প্রদান করা হবে। প্রথমে সরকারি ও পরে বেসরকারি খাতে এ ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে।’
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) গাজীপুর রাজবাড়ি মাঠে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
মায়েদের সম্মান প্রসঙ্গে জামায়াত আমির কঠোর ভাষায় বলেন, ‘যারা মায়েদের গায়ে হাত তোলে, মায়ের সন্তানেরা তাদের ক্ষমা করবে না। মাকে সম্মান করলে পুরো জাতি তোমাকে সম্মান করবে। জীবন দেবো, কিন্তু মায়ের সম্মান নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেবো না।’
তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে মনগড়া উন্নয়ন নয়; এমন উন্নয়ন হবে যার সুবিধাভোগী হবে আপামর জনগণ। আমরা কোনো জাত-পাত, ধর্ম-বর্ণের ভিত্তিতে বৈষম্য করব না। ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গড়াই আমাদের লক্ষ্য।’
তিনি আরো বলেন, ‘গাজীপুর একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল হলেও এখানে শ্রমিকদের শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি রয়েছে। ইনসাফের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হলে শিল্পাঞ্চলকে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা হবে ইনশাআল্লাহ।’
তিনি আরো বলেন, ‘গাজীপুর ঘনবসতিপূর্ণ শিল্পাঞ্চল হওয়া সত্ত্বেও এখানকার রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ, গ্যাস সরবরাহ ও টেকসই বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় ব্যাপক সমস্যা রয়েছে। অথচ জাতীয় জিডিপিতে গাজীপুরের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃষক, শ্রমিক ও শিল্পোদ্যোক্তাসহ প্রত্যেকের অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হবে।’
১২ ফেব্রুয়ারি ইনসাফের পক্ষে রায় দেয়ার আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘দেশ সেবার সুযোগ পেলে গাজীপুরের প্রতি কোনো বেইনসাফি করা হবে না।’
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘৫ তারিখের পরই দেখা যাচ্ছে, কিছু ভাই অতীতের মতো আবারো মজলুমদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে। তারা ক্ষমতায় এলে কী করবে, তা এখনই জনগণের সামনে পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে। মুখে দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার কথা বললেও, দুর্নীতি দূর করতে হলে আগে নিজের ঘর থেকেই শুরু করতে হয়। ঋণখেলাপীদের বগলের নিচে রেখে কেউ কখনো দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে পারে না।’
তিনি আরো বলেন, ‘যারা ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই এই আচরণ দেখাচ্ছে, তারা ক্ষমতায় গেলে ব্যবসায়ী, শিল্পোদ্যোক্তা, কৃষক ও শ্রমিক কেউই নিরাপদ থাকবে না। তারা মানুষের শান্তি ও স্থিতিশীলতা তছনছ করে দেবে।’
প্রতিপক্ষের সমালোচনার জবাবে জামায়াত আমির বলেন, ‘সমালোচনার জবাব দেয়ার সময় আমাদের নেই। আমরা ক্ষমতায় গেলে কারোর প্রতি বেইনসাফি করব না— এটাই আমাদের অঙ্গীকার।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘আমি জামায়াতে ইসলামীর একক নিরাপত্তা বা বিজয় চাই না; আমি চাই সারা দেশের নিরাপত্তা, শান্তি ও জনগণের শাসন। আমরা জনগণের ঐক্য চাই। কেউ যদি অন্যায়ভাবে কারো ওপর হাত তোলে, তাহলে সেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠোরভাবে দাঁড়াতে হবে।’
এ সময় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান গাজীপুর ও নরসিংদীর বিভিন্ন আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের জনতার সাথে পরিচয় করিয়ে দেন।
তিনি গাজীপুর-১ আসনে জোটের প্রার্থী শাহ আলম বকশি (দাঁড়িপাল্লা), গাজীপুর-২ আসনে অ্যাডভোকেট আলী নাসের খান (শাপলা কলি), গাজীপুর-৩ আসনে মাওলানা এহসানুল হক (রিকশা প্রতীক), গাজীপুর-৪ আসনে সালাউদ্দিন আইউবী (দাঁড়িপাল্লা), গাজীপুর-৫ আসনে খায়রুল হাসান (দাঁড়িপাল্লা) ও নরসিংদী-২ আসনে এনসিপির প্রার্থী সারোয়ার তোষারকে (শাপলা কলি) জনতার সামনে পরিচয় করিয়ে দেন।
গাজীপুর মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যাপক জামাল উদ্দীনের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি আ স ম ফারুকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা যায়নুল আবেদীন, গাজীপুর জেলা জামায়াতের আমির ড. জাহাঙ্গীর আলম, কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য খায়রুল হাসান, মো: হোসেন আলী, সালাউদ্দিন আইউবী, অ্যাডভোকেট শামসুল হক ভূঁইয়া, অধ্যক্ষ মুস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ।



