সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ঘর বুঝে পাওয়ার পর থেকে থাকছেন না অনেক আশ্রিত। ফলে অধিকাংশ ঘরে ঝুলছে তালা। এতে মাদকসেবীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে পরিত্যক্ত এসব আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর।
আশ্রয়ণ প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের মাথার ওপর স্থায়ী ছাদ নিশ্চিত করা। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পে খরচ হয়েছে ১১ হাজার কোটির বেশি টাকা।
কিন্তু দোয়ারাবাজার উপজেলার আশ্রয়ণ প্রকল্প সরেজমিনে ঘুরে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। কোথাও বরাদ্দ পাওয়া পরিবার ঘরে থাকছে না, কোথাও সরকারি ঘর বিক্রি হয়ে গেছে মোটা অঙ্কের টাকায়, আবার কোথাও বছরের পর বছর খালি পড়ে থাকা ঘর মাদকসেবী ও জুয়াড়িদের আস্তানায় পরিণত হয়েছে।
দৈনিক নয়া দিগন্তের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, অনেক প্রকল্পেই প্রকৃত উপকারভোগীর পরিবর্তে স্থানীয় প্রভাবশালী, মধ্যস্বত্বভোগী কিংবা অননুমোদিত ব্যক্তিরা ঘর দখল করে আছেন। কোথাও আবার সরকারি কোনো অনুমোদন ছাড়াই স্ট্যাম্পে সই নিয়ে একেকটি ঘর মোটা অঙ্কের টাকায় হাতবদল হয়েছে। বর্তমানে সেখানে বসবাসকারী অনেকেই সরাসরি টাকা দিয়ে ঘর কেনার কথা স্বীকার করেছেন।
উপজেলার মান্নারগাঁও ইউনিয়নের আজমপুর গ্রামে আশ্রয়ণ প্রকল্পে ২০২২ সালে ১৩২টি ঘর ভূমিহীন ও গৃহহীনদের বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। প্রতিটি ঘর নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এখানে বেশ কয়েকটি ঘর বিক্রিসহ ভাড়াও দেওয়া হয়েছে।
ঘর নির্মাণ করা হলেও স্থানীয় প্রশাসনের রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অনেক ঘর এখন পরিত্যক্ত। কোথাও প্রকৃত ভূমিহীন নন—এমন ব্যক্তিরা ঘর বরাদ্দ পেয়েছেন, আবার কেউ জীবিকার প্রয়োজনে অন্যত্র চলে যাওয়ায় ঘরগুলো জঙ্গলাকীর্ণ হয়ে পড়েছে। কেউ আবার ঘর পেয়ে বসবাস না করায় ঘরের দরজা ও আসবাবপত্র খুলে নিয়েছেন।
একই চিত্র দেখা গেছে বাংলাবাজার ইউনিয়নের বাঁশতলা কলোনি এলাকায়। সূত্রমতে, বাঁশতলা কলোনিতে ২৪টি ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়। সেখানে দুটি ঘর বিক্রি এবং কয়েকটি ঘর ভাড়া দেয়া হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বেশিরভাগ ঘরেই তালা ঝুলছে। তালায় জমে থাকা মরিচা ও চারপাশের মাকড়সার জালই বলে দিচ্ছিল, দীর্ঘদিন ধরে এসব ঘরে কেউ থাকে না।
অন্যদিকে যেসব ঘরে মানুষ বসবাস করছে, তাদের অনেকেরই সরকারি বরাদ্দ নেই। কেউ স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহায়তায়, কেউ আত্মীয়ের নামে বরাদ্দ পাওয়া ঘরে, আবার কেউ অর্থের বিনিময়ে এসব ঘরে থাকছে।
২০২২ সালের প্রলয়ংকরী বন্যায় আজমপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পে আশ্রয় নেওয়া নুরজাহান বেগম বলেন, ‘আমিনা বেগম নামে এক নারীর নামে বরাদ্দকৃত ঘরে তারা বসবাস করছেন। আমিনা বেগম অন্যত্র বাড়িতে বসবাস করায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পরিত্যক্ত রয়েছে। আর এই সুযোগে ২০২২ সালের বন্যায় আশ্রয় নেয় নুরজাহান বেগমের পরিবার। কিন্তু আমিনা বেগম বসবাস না করেও ঘরের মালিক দাবিদার হওয়ায় কিছুদিন পর ঘরের দরজা খুলে নিয়ে যান।’
এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরূপ রতন সিংহ নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘যারা নথির বাইরে বা অবৈধভাবে অবস্থান করছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিক্রির অভিযোগ সঠিক হলে এসব ঘরের বরাদ্দ বাতিল করা হবে।’



