কক্সবাজারে পাহাড় ধসে রোহিঙ্গা নারী-শিশুসহ নিহত ৯

কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, পাহাড় ধসে চাপা পড়ে একই পরিবারের তিনজনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে। চাপা পড়া আলী আকবরের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন

Location :

Cox's Bazar
হতাহতদের উদ্ধারে কাজ করছেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা
হতাহতদের উদ্ধারে কাজ করছেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা |সংগৃহীত

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পেসহ পৃথক পাহাড় ধসের ঘটনায় নারী-শিশুসহ নয়জন নিহত হয়েছেন। এক রাতেই উখিয়ার তিনটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও কক্সবাজার শহরে আরো একটি পাহাড় ধ্বসের ঘটনা ঘটে। এতে নারী ও শিশুসহ অন্তত আট রোহিঙ্গাসহ নয়জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো কয়েকজন।

সোমবার দিবাগত রাত ১টা থেকে ৩টার মধ্যে উখিয়ার ৭, ১১ ও ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, এপিবিএন, ক্যাম্প প্রশাসন ও রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকেরা রাতভর চালায় উদ্ধার অভিযান।

রোহিঙ্গা শরণার্থী মোহাম্মদ মোস্তাফা জানান, সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকে। রাত দেড়টার দিকে আশ্রিত রোহিঙ্গা মোহাম্মদ কামাল হোসাইনের বসতঘরের ওপর ধসে পড়ে পাহাড়ের বিশাল অংশ। মুহূর্তেই মাটির নিচে চাপা পড়ে যায় পুরো ঘর।

উদ্ধারকারীরা ঘরের ভেতর থেকে কামাল হোসাইন (৪৪), তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং ৪ বছরের ছেলে মোহাম্মদ আনাসের লাশ উদ্ধার করেন। দুর্ঘটনার সময় ঘরটিতে পরিবারের ১০ সদস্য অবস্থান করছিলেন। আহত এক কিশোরীকে উদ্ধার করে পাঠানো হয়েছে হাসপাতালে। পরিবারের অন্য সদস্যরা প্রাণে বেঁচে গেলেও তাদের অনেকেই গুরুতর আহত হয়েছেন।

উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা বলেছেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে মৃত এবং দুইজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

এর কিছুক্ষণ পরই রাত ২টার দিকে উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের কুতুপালং ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৭ ব্লকে আরেকটি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। এতে একরাম (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। সে ওই ক্যাম্পের বাসিন্দা মোহাম্মদ রশিদের ছেলে।

ক্যাম্পের মাঝি এনায়েত উল্লাহ জানিয়েছেন, পাহাড় ধসের পর রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকেরা শিশুটির লাশ উদ্ধার করেন।

রাত গড়াতে না গড়াতেই আরেকটি দুঃসংবাদ আসে বালুখালী ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে। রাত সাড়ে ৩টার দিকে ক্যাম্পের সি/১১ ব্লকে পাহাড় ধসে একই পরিবারের চারজন প্রাণ হারান। আহত হন আরো একজন।

নিহতরা হলেন- ওই ক্যাম্পের বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে উম্মে হাবিবা (২৭), তার বোন তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রশিদের ছেলে মোহাম্মদ রিহান (৫) এবং তার ভাই হারুনুর রশিদ (৩)।

তিনটি পৃথক পাহাড় ধসের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা মোট আটজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘সবকটি ঘটনা কাছাকাছি সময়ে ঘটেছে। রাতভর উদ্ধার অভিযান চালানো হয়েছে। নিহতদের লাশ উদ্ধার এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

এদিকে রাত ৩টার দিকে কক্সবাজার শহরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্তার ঘোনা এলাকায় পাহাড়ধসে আলী আকবর নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, পাহাড় ধসে চাপা পড়ে একই পরিবারের তিনজনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে। চাপা পড়া আলী আকবরের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের লাশ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

ক্যাম্পে বসবাসকারী রোহিঙ্গা জাফর আলমের বলেন, বর্ষা এলেই তাদের সবচেয়ে বড় আতঙ্ক হয়ে ওঠে পাহাড় ধস। পাহাড় কেটে তৈরি করা ঢালে বাঁশ, ত্রিপল ও মাটির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা হাজারো ঘর ভারী বৃষ্টিতে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। সামান্য ধসও মুহূর্তেই কেড়ে নিতে পারে বহু প্রাণ।

ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে মাইকিংসহ বিভিন্নভাবে সতর্ক করা হচ্ছে জানিয়ে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার বলেন, ‘ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড় ধসের ঝুঁকি অনেক বেড়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মাইকিং করে সবাইকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হচ্ছে। জীবন রক্ষায় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলা জরুরি।’ সূত্র : বাসস