চলতি ঈদ-পূর্ব চার দিনে পদ্মা সেতু দিয়ে এক লাখ ৬০ হাজার ৬৭৪টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এর বিপরীতে টোল আদায় হয়েছে ১৮ কোটি চার লাখ আট হাজার ২০০ টাকা।
এ সময় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এক্সপ্রেসওয়ে ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা মহাসড়ক হয়ে পদ্মা সেতু পাড়ি দিয়ে দূরপাল্লার যানবাহনগুলো চলাচল করেছে নির্বিঘ্নে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের দিকনির্দেশনায় সেতু কর্তৃপক্ষ আগেভাগেই ব্যাপক প্রস্তুতি ও সেতুর উভয় প্রান্তে ১৯টি টোলবুথ সার্বক্ষণিক সচল রেখেছিল। এতে যাত্রীসাধারণ নির্বিঘ্নে ও স্বস্তিতেই সেতু পাড়ি দিয়েছেন।
ঈদের দিন বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দুপুর ৩টার দিকে পদ্মা সেতুর সাইট অফিস থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ নিলয় নয়া দিগন্তকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সেতু কর্তৃপক্ষের সাইট অফিস থেকে দেয়া টোল রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রার শেষ দিন অর্থাৎ গতকাল বুধবারও (২৭ মে) পদ্মা সেতুতে ২৪ ঘণ্টায় ৩৯ হাজার ৭৯টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে করে এদিন মাওয়া ও জাজিরা প্রান্ত মিলে ক্যাশ, ক্রেডিট ও ইটিসিসহ মোট টোল আদায় হয়েছে চার কোটি ৩৬ লাখ ৫১ হাজার ২০০ টাকা।
এর আগের দিন মঙ্গলবার (২৬ মে) ২৪ ঘণ্টায় মাওয়া ও জাজিরা প্রান্ত দিয়ে মোট ৪৫ হাজার ৬০২টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে মোট টোল আদায় হয়েছে পাঁচ কোটি তিন লাখ ২৪ হাজার ৪৫০ টাকা। এটি সেতুর চালুর পর থেকে টোল আদায়ে সর্বোচ্চ দ্বিতীয় রেকর্ড।
সোমবার (২৫ মে) ২৪ ঘণ্টায় মাওয়া ও জাজিরা প্রান্ত দিয়ে মোট ৪৪ হাজার আটটি যানবাহন পারাপার হয়। এতে মোট টোল আদায় হয়েছে চার কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৩৫০ টাকা।
রোববার (২৪ মে) ২৪ ঘণ্টায় মাওয়া ও জাজিরা প্রান্ত দিয়ে মোট ৩১ হাজার ৯৮৫টি যানবাহন পারাপার হয়। এতে ক্যাশ, ক্রেডিট ও ইটিসিসহ মোট টোল আদায় হয়েছে তিন কোটি ৮৪ লাখ ১৭ হাজার ২০০ টাকা।
সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্র আরো জানায়, গত বছরের তুলনায় এ বছর বেশি যানবাহন সেতু পারাপার হলেও সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের দূরদর্শী ও কার্যকর দিকনির্দেশনায় যাত্রা ছিল নির্বিঘ্ন, নিরাপদ ও স্বস্তির। ফলশ্রুতিতে এই পরিসংখ্যানগুলো দেশের সড়ক অবকাঠামো ব্যবস্থাপনায় সেতু কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা ও দক্ষতার প্রতিফলন। তবে ঈদের দিন বৃহস্পতিবার টোলপ্লাজাগুলো অনেকটাই ফাঁকা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
প্রকৌশলী আবু সায়াদ নিলয় আরো জানান, নির্দেশনা অনুযায়ী আগেভাগেই টোলপ্লাজায় বিভিন্ন প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়। একইসাথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, জেলা ও স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টায় সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হয়। পাশাপাশি সেতুতে অত্যাধুনিক ক্যাশলেস ‘ডি’ টোল সুবিধা ও দুই প্রান্তে সবমিলিয়ে ১৯টি টোল বুথ সার্বক্ষণিক সচল রাখা হয়। এতে গেলো ঈদুল ফিতরের মতো চলতি ঈদেও ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন ও স্বস্তিদায়ক হয়েছে।



