ভালুকা (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা
ময়মনসিংহের ভালুকায় টয়লেটের ভেতর থেকে রবিউল ইসলাম নামে এনআর গ্রুপের আরিফ স্পিনিং মিলের এক কর্মকর্তার লাশ উদ্ধার করেছে মডেল থানা পুলিশ। বুধবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ভালুকায় ওই কর্মকর্তার লাশ উদ্ধার করা হয়। রবিউল নেত্রকোণা জেলার পূর্বধলা উপজেলার মেগশিমুল গ্রামের মৃত রইজ উদ্দিনের ছেলে।
নিহতের পরিবারের দাবি রবিউলকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিউল ২০০৪ সাল থেকে আরিফ স্পিনিং মিলে সহকারী ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০২৩ সালে তাকে কোম্পানি থেকে চাকরিচ্যুত করা হয় এবং ২০২৪ সালে কোম্পানির মালিক পূনরায় তাকে নিয়োগ দেন। এক বছর চাকরি না থাকায় তিনি কারখানার সামনেই একটি মনোহারি দোকান চালাতে গিয়ে ধার-দেনায় পড়েন। পাওনাদাররা টাকার জন্য সম্প্রতি তাকে ব্যাপক চাপ দিতে থাকেন। দেনার চাপে তিনি মানসিক অস্বস্তিতে ভুগছিলেন। ঘটনার দিন দুপুরে তিনি বাসা থেকে দুপুরের খাবার শেষে অফিসে যান। তখন বেশ কিছু সময় তাকে অফিসে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিলো না। পরে সন্ধ্যার দিকে অফিসের একটি টয়লেট দীর্ঘক্ষণ ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় উপস্থিত অন্যদের সন্দেহ হয়। পরে টয়লেটের দরজা ভেঙ্গে হাইকমোডের পাশে অজ্ঞান অবস্থায় কাত হয়ে রবিউলকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। এ সময় তাকে উদ্ধার করে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন।
আরিফ স্পিনিং মিলের ডেপুটি ম্যানেজার আরিফুল ইসলাম জানান, বেশ কিছু সময় রবিউলকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিলা না। পরে এক শ্রমিকের মাধ্যমে জানা যায় দীর্ঘসময় ধরে একটি টয়লেটের দরজা বন্ধ রয়েছে। পরে দরজা ভেঙ্গে অজ্ঞান অবস্থায় রবিউলকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে ভালুকা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।
নিহতের নিকটাত্মীয় মোফাজ্জল হোসেন বলেন, রবিউলের গলায় আঘাতের চিহ্ন থাকায় সন্দেহ হচ্ছে যে তাকে কেউ শ্বাসরোধে হত্যা করেছে।
ভালুকা মডেল থানার ওসি মো: হুমায়ুন কবির জানান, রবিউল ইসলাম ব্যবসায় করে আর্থিক সংকটে থাকায় দেনাদার ও পরিবারের চাহিদা পুরণে ব্যর্থ হয়ে আত্মহত্যা করতে পারেন। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।



