সিলেটে শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় যেনো জমজমাট ভোটের লড়াই

সোমবার নির্বাচনী মিছিল, গণসংযোগ ও পথসভায় সরগরম ছিল সিলেট-১ (সিটি করপোরেশন-সদর) আসনে। বিএনপি প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির নগরের সোবহানীঘাটসহ শহরজুড়ে ট্রাকে চড়ে নির্বাচনী শোডাউন দিয়েছেন। আর ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী জামায়াতের মাওলানা হাবিবুর রহমান কোর্ট পয়েন্ট ও শেখঘাট এলাকায় প্রচার মিছিলে অংশ নেন।

আবদুল কাদের তাপাদার, সিলেট ব্যুরো

Location :

Sylhet
জামায়াতের নির্বাচনী প্রচারণা, (ডানে) বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণা
জামায়াতের নির্বাচনী প্রচারণা, (ডানে) বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণা |নয়া দিগন্ত

দরজায় কড়া নাড়ছে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। সিলেটে শেষ মুহুর্তের প্রচার প্রচারণায় ব্যস্ত এখন সিলেট নগর ও জেলার শহর গ্রাম-গঞ্জ। অবিরাম অন্তহীন প্রচারণায় ক্লান্তিহীন নেতাকর্মীদের পদচারণায় মুখরিত এখন সমগ্র সিলেট।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাত পেরিয়ে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টায় শেষ হবে প্রচারণা। এরপরই কেবল ভোটের পালা। জয়-পরাজয়ের হিসাব-নিকাশ।

নির্বাচনি প্রচারণার শেষ দিন সোমবার সিলেট নগরী ও জেলার সবকটি সংসদীয় আসনে শোডাউন, প্রচার মিছিল ও গণসংযোগে বেশ উৎসবমুখর ছিল সিলেটের শহর গ্রাম-গঞ্জ।

ইসির তফসিল অনুযায়ী, গত ২২ জানুয়ারি থেকে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করে। তবে প্রথম দিকে নির্বাচনি প্রচারণা জমজমাট না হলেও শেষ মুহুর্তে ভোটের প্রচারণা নতুন মাত্রা পায়। ১৮ দিনের প্রচার প্রচারণার কর্মযজ্ঞ শেষ করেছেন প্রার্থী ও সমর্থকেরা।

সরেজমিন দেখ যায়, সোমবার নির্বাচনী মিছিল, গণসংযোগ ও পথসভায় সরগরম ছিল সিলেট-১ (সিটি করপোরেশন-সদর) আসনে। বিএনপি প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির নগরের সোবহানীঘাটসহ শহরজুড়ে ট্রাকে চড়ে নির্বাচনী শোডাউন দিয়েছেন। আর ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী জামায়াতের মাওলানা হাবিবুর রহমান কোর্ট পয়েন্ট ও শেখঘাট এলাকায় প্রচার মিছিলে অংশ নেন। এছাড়া দুই প্রার্থী বিভিন্ন পাড়া মহল্লায়ও গণসংযোগ করেছেন। প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়িয়েছেন। বড় রাজনৈতিক দল থেকে শুরু করে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিভিন্ন সভা, সমাবেশ ও গণসংযোগের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে নিজেদের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন।

ভোটাররা বলছেন, মর্যাদার সিলেট আসনে ভোটের লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান এবং বিএনপি মনোনীত প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এই দুই প্রার্থীর কর্মী সমর্থকরা বিরামহীন প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগ চালিয়ে গেছেন।

১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান দুর্নীতিমুক্ত, নিরাপদ, মানবিক, ইনসাফ ও ন্যায়ের সিলেট গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন। সেইসাথে ন্যায় ও ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লাকে বিজয়ী করতে সিলেটবাসীকে আহ্বান জানান প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ।

অপরদিকে বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির নগরের মোড়ে মোড়ে ট্রাক দিয়ে নির্বাচনি শোডাউন দিয়ে সিলেটবাসীর ভোট চেয়েছেন। তিনি সিলেটে আইটি হাব প্রতিষ্ঠাসহ নানা প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেছেন।

এই দুই প্রার্থী ছাড়াও ভোটের মাঠে রয়েছেন বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) প্রণব জ্যোতি পাল, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো: শামীম মিয়া, গণঅধিকার পরিষদের আকমল হোসেন, ইসলামী আন্দোলনের মাহমুদুল হাসান ও বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) প্রার্থী হিসেবে সঞ্জয় কান্তি দাস। শেষ মুহুর্তে এসে তারাও ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।

এদিকে সিলেটের সবকটি সংসদীয় আসনের সর্বত্র জমজমাট ও ক্লান্তিহীন প্রচারণায় অন্য রকম এক উত্তাল জনপদে পরিণত হয়েছে মফস্বলের নিভৃত পল্লীর জনপদ। নিজেদের মার্কার সমর্থনে মাইকিং আর গানে গানে জমজমাট প্রচারণা শেষ হচ্ছে আজ।

ইসির তথ্য বলছে, সিলেট বিভাগে জেলাভিত্তিকে হিসেবেও ভোটার সংখ্যায় এগিয়ে সিলেট জেলা। এই জেলায় মোট ভোটার ৩১ লাখ ১৩ হাজার ৩৯৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১৬ লাখ ২৪ হাজার ৯৭০ জন, মহিলা ১৪ লাখ ৮৮ হাজার ৪০৮ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১৮ জন। আসনভিত্তিক হিসেবেও সিলেট-১ আসন এগিয়ে। এই আসনে ভোটার রয়েছেন ছয় লাখ ৮০ হাজার ৯৪৬ জন।

ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, ভোটগ্রহণের প্রায় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে প্রশাসন। নির্বাচনকে সামনে রেখে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজিয়েছে প্রশাসন। এবারের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে থাকছে ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা। এছাড়াও পুলিশের সাথে থাকবে বডি ওর্ন ক্যামেরা। সবমিলিয়ে ভোট শান্তিপূর্ণ করতে ব্যাপক কর্মজজ্ঞ ইসি ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তাদের।

পুলিশ জানায়, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের আওতায় ২৯৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ৯৭টি অতি গুরুত্বপূর্ণ (লাল), ১৩২টি গুরুত্বপূর্ণ (হলুদ) ও ৬৫টি সাধারণ (সবুজ)। আর বিভাগজুড়ে চার জেলার দুই হাজার ৬৪১টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩৬২টি অতি গুরুত্বপূর্ণ, ৮৯৮টি গুরুত্বপূর্ণ ও এক হাজার ৩৮১টি সাধারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

জানা গেছে, ভোটের দিন অতি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। কোনো বিশৃঙ্খলার সময় দায়িত্বরত পুলিশ ভিডিও ধারণ করবেন, যা পরবর্তী তদন্তে ডিজিটাল প্রমাণ হিসেবে সংরক্ষণ করা হবে। প্রতিটি কেন্দ্রের নিরাপত্তার জন্য কমপক্ষে তিনজন পুলিশ সদস্য দায়িত্বে থাকবেন। এছাড়া প্রতিটি কেন্দ্রে তিনজন অস্ত্রসহ ১৩ জন আনসার থাকবেন। ১০ জন আনসার থাকবেন অস্ত্রবিহীন (ছয় পুরুষ, চার নারী)।

কেন্দ্রের বাইরে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টহল ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। সেনা, নৌ, বিমান বাহিনী, র‌্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ড ও পুলিশ থেকে থাকবে স্ট্রাইকিং ফোর্স। থাকবে মোবাইল টিমও। ইতোমধ্যে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সিলেট বিভাগে দুই হাজার ১০০ জন বিজিবি সদস্য টহল শুরু করেছে।