ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগার থেকে হাজতির পলায়ন, বরখাস্ত ৮

মামলার কাগজে ছবি সংযুক্ত না থাকায় এবং অন্যান্য হাজতি ও কয়েদিদের মিথ্যা শনাক্তকরণের কারণে কর্তব্যরত কারারক্ষীরা হৃদয়কে দিদার হোসেন মনে করে মুক্তি দেন।

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

Location :

Brahmanbaria
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগার
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগার |নয়া দিগন্ত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগার থেকে হৃদয় মিয়া (২৮) নামের এক হাজতি অন্য এক আসামির জামিনের কাগজ ব্যবহার করে কৌশলে পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ডেপুটি জেলারসহ আটজন কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি পাঁচ হাজতি ও দুই কয়েদির বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা করা হয়েছে।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের কারা উপ-মহাপরিদর্শকের পক্ষে সিনিয়র জেল সুপার মো: ইকবাল হোসেনের স্বাক্ষরিত আদেশে এক হাজতির পরিবর্তে অন্য হাজতিকে ভুলভাবে মুক্তি দেয়ার ঘটনায় তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে ওই হাজতি কারাগার থেকে পালিয়ে যান। তবে কর্তৃপক্ষের গোপনীয়তার কারণে বিষয়টি রাতে স্থানীয় সংবাদকর্মীরা জানতে পারেন।

পলাতক হাজতি হৃদয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার নিমবাড়ি মধ্যপাড়ার মুজিবুর মিয়ার ছেলে।

বরখাস্তকৃতরা হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারের কারারক্ষী মো: মোরশেদ আলম, ফটক কারারক্ষী মো: হানিফ, মুক্তি শাখার কারারক্ষী মো: সাহাব উদ্দিন, ভর্তি শাখার ইনচার্জ ও কারারক্ষী রবিউল আলম, কারাভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা কারারক্ষী মো: জাহিদ হাসান এবং আইসিটি শাখার কারারক্ষী মো: আবু খায়ের। এর আগে ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে দায়িত্বে গুরুতর অবহেলার প্রমাণ পাওয়ায় ডেপুটি কারারক্ষী মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম ও সর্বপ্রধান কারারক্ষী শাহাদাত হোসেনকে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

কারা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার জেলা কারাগারের সুপার ওবায়দুর রহমান বিষয়টি লিখিতভাবে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতকে (নবীনগর) অবহিত করেন। একই দিন জেলা কারাগারের জেলার মনজুরুল আলম সদর থানায় সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

মামলার আসামিরা হলেন পলাতক হাজতি হৃদয় (২৮), নবীনগর উপজেলার কৃষ্ণনগরের হাজতি দিদার হোসেন (২৮), একই উপজেলার নান্দুরা পূর্বপাড়ার হাজতি বিল্লাল মিয়া (২২), সদর উপজেলার পাঘাচংয়ের কয়েদি মো: পলাশ হোসেন (২৫), কসবা উপজেলার কোন্নাবাড়ির কয়েদি আক্তার হোসেন ওরফে ছোটন (৩০), সিলেটের মোগলাবাজার উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের হাজতি শিপন মিয়া (৪৫) এবং কসবা উপজেলার সোনারগাঁও গ্রামের হাজতি মনির হোসেন (৫৫)। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরো পাঁচ থেকে সাতজনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, এক থেকে সাত নম্বর আসামিরা বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার হয়ে আদালতের মাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারে আসেন। দুই নম্বর আসামি দিদার হোসেন ২০১৬ সালের একটি মামলায় গ্রেফতার হয়ে ১৫১ ধারায় কারাগারে পাঠানো হয়। চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি ওই মামলার জামিননামা কারাগারে পৌঁছায়।

গত ২৯ জানুয়ারি সকাল ১১টা ৫২ মিনিটে জামিনপ্রাপ্ত আসামিদের মুক্তির সময় হৃদয়, অন্যান্য আসামিদের সহায়তায় নিজেকে দিদার হোসেন পরিচয় দিয়ে মুক্ত হওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় সে দিদার হোসেনের কেস হিস্ট্রি টিকিটে থাকা ছবি কৌশলে সরিয়ে ফেলেন এবং ছবি হারিয়ে গেছে বলে দাবি করেন। মামলার কাগজে ছবি সংযুক্ত না থাকায় এবং অন্যান্য হাজতি ও কয়েদিদের মিথ্যা শনাক্তকরণের কারণে কর্তব্যরত কারারক্ষীরা হৃদয়কে দিদার হোসেন মনে করে মুক্তি দেন।

পরবর্তীতে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে আসামিরা অনৈতিক সুবিধার আশায় পরস্পর যোগসাজশে হৃদয়কে পালাতে সহায়তার কথা স্বীকার করে। এরপর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে সদর থানায় মামলা করা হয়।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান জানান, ঘটনাটি সত্য। যেহেতু ইতোমধ্যে আটজন কারারক্ষীকে বরখাস্ত করা হয়েছে, তাই আলাদা করে তদন্ত কমিটি গঠনের প্রয়োজন নেই।