টানা বর্ষণে কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে আবারো পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে মাটিচাপা পড়ে বিবি হাফসা (১৮) নামে এক রোহিঙ্গা তরুণীর মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৮ ইস্টের ব্লক ডি/৫ এলাকায়
এই পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে।
নিহত রোহিঙ্গা তরুণী বিবি হাফসা নুরুল ইসলামের স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে প্রবল বৃষ্টির মধ্যে পাহাড়ের একটি অংশ ধসে বিবি হাফসার বসতঘরের উপর পড়ে। এতে ঘরটি সম্পূর্ণভাবে মাটিচাপা পড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই বিবি হাফসার মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয় রোহিঙ্গা বাসিন্দারা ও স্বেচ্ছাসেবীরা উদ্ধারকাজ চালিয়ে তার লাশ উদ্ধার করেন।
এ ঘটনার পর ক্যাম্পজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে পাহাড়ের ঢালঘেঁষে বসবাসকারী হাজারো রোহিঙ্গা পরিবার নতুন করে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, টানা বর্ষণ অব্যাহত থাকলে আরো ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একের পর এক পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটছে। অতিবৃষ্টি ও দুর্বল পাহাড়ি ঢালের কারণে বারবার প্রাণহানি ও ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা সামনে আসছে।
এর আগে, চলতি মাসেই কয়েকটি ক্যাম্পে ভয়াবহ পাহাড়ধসে নারী-শিশুসহ একাধিক রোহিঙ্গার প্রাণহানি ঘটে এবং বহু পরিবার আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে। এসব ঘটনার পর ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেয়ার উদ্যোগ নেয়া হলেও এখনো অসংখ্য পরিবার পাহাড়ঘেঁষা ঝুঁকিপূর্ণ আশ্রয়ে বসবাস করছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বর্ষা মৌসুমজুড়ে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বহাল রয়েছে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত পরিবারগুলোকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া এবং পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস না করার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে একই ধরনের দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটলেও স্থায়ীভাবে ঝুঁকি কমানোর কার্যকর ব্যবস্থা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে প্রতিটি ভারী বর্ষণের সাথে নতুন করে আতঙ্ক নিয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দাদের।



