চৌগাছায় ২ খৈয়া গোখরা সাপ ও ২ ডাহুক উদ্ধার, অবমুক্ত

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড স্নেক রেস্কিউ টিম ইন বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে উদ্ধার, সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং বন বিভাগকে সহায়তা করে আসছে।

এম এ রহিম, চৌগাছা (যশোর)

Location :

Jashore
সাপ ও ডাহুক উদ্ধার
সাপ ও ডাহুক উদ্ধার |নয়া দিগন্ত

যশোরের চৌগাছার স্বরূপদাহ ইউনিয়নের খড়িঞ্চা গ্রামে ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড স্নেক রেস্কিউ টিম ইন বাংলাদেশ-এর উদ্যোগ ও সক্রিয় ভূমিকায় দু’টি খৈয়া গোখরা সাপ ও দু’টি ডাহুক পাখি উদ্ধার করে প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করা হয়েছে।

শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে এ অবকমুক্ত ও উদ্ধারভিযান পরিচালনা করা হয়।

জানা যায়, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড স্নেক রেস্কিউ টিম ইন বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে উদ্ধার, সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং বন বিভাগকে সহায়তা করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় শনিবার স্থানীয় সূত্রে বন্যপ্রানী আটকের বিষয়ে তথ্য পান ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড স্নেক রেস্কিউ টিম ইন বাংলাদেশ-এর যশোর জেলা প্রতিনিধি আশিকুল ইসলাম মিথুন।

খবর পেয়ে তিনি সংগঠনের ঊর্ধ্বতন সদস্যদের বিষয়টি অবহিত করেন। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী খুলনা বন্যপ্রাণী ক্রাইম কন্ট্রোল ইউনিটের সাথে যোগাযোগ করা হলে দ্রুত যৌথভাবে উদ্ধার অভিযানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

পরে খুলনা বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের ওয়াইল্ডলাইফ রেঞ্জার মুহাম্মদ ইসমাইল হোসাইন ও যশোরের শার্শার নাভারন বন্যপ্রাণী অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ইউনিটের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলমের দিকনির্দেশনায় এবং খুলনা বিভাগের বন্যপ্রাণী সংরক্ষক এইচ এম কামরুজ্জামানের উপস্থিতিতে ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড স্নেক রেস্কিউ টিম ইন বাংলাদেশ অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানে বেদে সম্প্রদায়ের কাছ থেকে দু’টি খৈয়া গোখরা সাপ ও দু’টি ডাহুক পাখি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার শেষে বিকেলে নিরাপদ ও উপযুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশে প্রাণীগুলো অবমুক্ত করা হয়।

আশিকুল ইসলাম মিথুন বলেন, ‘স্থানীয়দের কাছ থেকে জানতে পারি, একটি বেদে পরিবার এলাকায় অস্থায়ীভাবে অবস্থান করে সাপের খেলা দেখিয়ে মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় করছে। একই সাথে পাশের বাওড়ে অবৈধভাবে ডাহুক পাখি শিকার করছে বলেও খবর পাই। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথে নিয়ে ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড স্নেক রেস্কিউ টিম ইন বাংলাদেশ-এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করি। পরে যৌথ অভিযানের মাধ্যমে বন্যপ্রাণীগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয়।’

খুলনা বিভাগের বন্যপ্রাণী সংরক্ষক এইচ এম কামরুজ্জামান বলেন, ‘ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড স্নেক রেস্কিউ টিম ইন বাংলাদেশ-এর মতো স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের দ্রুত তথ্য প্রদান ও মাঠপর্যায়ের সহযোগিতা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সাধারণ মানুষের সহযোগিতা থাকলে আরো কার্যকরভাবে বন্যপ্রাণী রক্ষা করা সম্ভব হবে।’

অভিযান চলাকালে ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড স্নেক রেস্কিউ টিম ইন বাংলাদেশ-এর সংগ্রহ বিভাগের শিক্ষানবিশ সদস্য মেহেদী হাসানসহ স্থানীয় সাংবাদিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।