দুর্ভোগ ও দুর্গন্ধে নাকাল এলাকাবাসী

লালমোহন পৌরসভার ময়লা ফেলা হচ্ছে হেলিপ্যাডের ওপর!

এলাকাবাসীর দাবি, লালমোহন পৌরসভার বর্তমান প্রশাসক মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেকের নির্দেশে হেলিপ্যাডের ওপরে—যেখানে হেলিকপ্টার ওঠানামা করে—ঠিক সেই জায়গায় ফেলা হচ্ছে ময়লা।

লালমোহন (ভোলা) সংবাদদাতা

Location :

Lalmohan
লালমোহন পৌরসভার ময়লা ফেলা হচ্ছে হেলিপ্যাডের ওপর!
লালমোহন পৌরসভার ময়লা ফেলা হচ্ছে হেলিপ্যাডের ওপর! |নয়া দিগন্ত

ভোলার লালমোহন পৌরসভার ময়লা ফেলা হচ্ছে বর্তমান হেলিপ্যাডের ওপর।

এলাকাবাসীর দাবি, লালমোহন পৌরসভার বর্তমান প্রশাসক মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেকের নির্দেশে হেলিপ্যাডের ওপরে—যেখানে হেলিকপ্টার ওঠানামা করে—ঠিক সেই জায়গায় ফেলা হচ্ছে ময়লা।

এসব ময়লার ভাগাড়ের দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ ওই এলাকাবাসী ও পথচারীরা। কিছুদিন আগে লালমোহন হেলিপ্যাডের পূর্ব পাশে ব্যস্ততম মহাসড়কের ওপর ও পাশে ফেলা হচ্ছিল ময়লা। এ নিয়ে তখন বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করা হলে রাস্তার পাশে ময়লা ফেলা বন্ধ করে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু বর্তমানে যেখান থেকে হেলিকপ্টার ওঠানামা করে, ঠিক সেখানেই ফেলা হচ্ছে ময়লা। কোনো জরুরি কাজে এখন আর হেলিকপ্টার হেলিপ্যাডে নামতে ও উঠতে পারবে না। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

হেলিপ্যাড এলাকার বাসিন্দা মো: শফিউল্যাহ, হাছানুজ্জামান ও রাশেদা বেগম বলেন, যেখানে হেলিকপ্টার ওঠানামা করে সেখানে এবং হেলিপ্যাডের ওপর কীভাবে পৌরসভার ময়লা ফেলা হচ্ছে? ময়লার দুর্গন্ধে এই এলাকায় বসবাস করাই এখন কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে। ময়লার মধ্যে প্রতিদিন কয়েক দলে কুকুর আসে খাবারের সন্ধানে। এখান দিয়ে মানুষ যাতায়াত করার সময় সকলে কুকুরের ভয়ে থাকে। এ পর্যন্ত তিনজনকে কামড়েও দিয়েছে। শুধু মানুষ নয়, এই এলাকার গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগিকে নিয়মিত কামড়াচ্ছে কুকুরগুলো।

তারা আরো বলেন, লালমোহনের ইউএনও এবং পৌরসভার প্রশাসককে কয়েকবার অনুরোধ করেছি ময়লা হেলিপ্যাডের ওপরে না ফেলতে। কিন্তু তিনি আমাদের কোনো কথায় কর্ণপাত করেননি।

সাজু চৌধুরী নামে একজন জানান, সকালে ফজরের নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় কুকুরের ভয়ে আমাদের নামাজ পড়তে যেতে কষ্ট হয়।

ওই এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, দ্রুত হেলিপ্যাডের ওপর ময়লা ফেলা বন্ধ করা হোক এবং যেসব ময়লা ফেলা হয়েছে তা দ্রুত অপসারণ করা হোক।

জানা যায়, লালমোহন পৌরসভাটি হচ্ছে প্রথম শ্রেণির। পৌরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল ময়লা ফেলার জন্য নিজস্ব ডাম্পিংয়ের ব্যবস্থা করা। এর আগের প্রশাসক মো: শাহ আজিজ পৌরবাসীর দাবির মুখে ওয়াদা করে বলেছিলেন, শিগগিরই ময়লা ফেলার জন্য জমি ক্রয় করা হবে এবং ডাম্পিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু তিনি তার সেই ওয়াদা রক্ষা করেননি। পৌরবাসীকে ধোঁকা দিয়ে তিনি লালমোহন থেকে বিদায় নিয়েছেন। এরপর বর্তমান পৌর প্রশাসক মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক দায়িত্ব নেয়ার পর কার্যত পৌরসভার কোনো উন্নয়ন দেখাতে পারেননি পৌরবাসীকে।

লালমোহন হেলিপ্যাডের ওপর পৌরসভার ময়লা ফেলার ব্যাপারে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক বলেন, ‘হেলিপ্যাডের ওপর ময়লা ফেলার সুযোগ নেই। আমরা ফেলতে চাচ্ছি না। পৌরসভার ময়লা ফেলার জন্য কোনো জায়গা না থাকায় বাধ্য হয়ে হেলিপ্যাডের ওপর ময়লা ফেলতে হচ্ছে। আমরা নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার জন্য পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছি। পৌরসভার জমি ক্রয় ও ডাম্পিং সহ সকল প্রস্তাব গত মাসে মন্ত্রণালয় থেকে বাতিল করা হয়েছে। ময়লা ফেলার জন্য সরকারি খাসজমি দেখে পুনরায় প্রস্তাব পাঠাতে বলা হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা প্রস্তাবনার কাজ করছি।’