ফরিদ আহমেদ আবির, দুর্গাপুর (রাজশাহী)
রাজশাহীর দুর্গাপুরে পেঁয়াজের বাজারে নেমেছে ভয়াবহ ধস। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় ২০ টাকা কমে বর্তমানে কৃষক পর্যায়ে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে মাত্র চার থেকে পাঁচ টাকায়। এতে উৎপাদন খরচও উঠে আসছে না।
বাজারে চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত সরবরাহ এবং চলমান জ্বালানি সঙ্কটের প্রভাবে এই দরপতন ঘটেছে বলে জানা গেছে। পরিবহন সঙ্কটের কারণে চালানি ব্যবসায়ীরা রাজধানীসহ বড় মোকামে পেঁয়াজ পাঠাতে পারছেন না। ফলে স্থানীয় হাটবাজারেই জমে থাকছে বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ।
শনিবার (২৮ মার্চ) উপজেলার বিভিন্ন হাট ও মোকামে প্রতি মণ পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা দরে। এতে কৃষকরা প্রতি কেজিতে পাচ্ছেন মাত্র পৌনে চার থেকে পাঁচ টাকা। অথচ এক সপ্তাহ আগেও একই পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৪০০ থেকে ৭০০ টাকা মণ দরে।
কৃষকরা জানান, বাড়ি থেকে হাটে পেঁয়াজ নিতে পরিবহন খরচ পড়ছে প্রতি মণে ৩০ টাকা এবং খাজনা দিতে হচ্ছে আরো ৩০ টাকা। ফলে এক মণ পেঁয়াজ বিক্রি করে হাতে থাকছে মাত্র ৯০-১৪০ টাকা। অথচ উৎপাদন খরচই পড়েছে প্রতি মণে ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা।
উপজেলার আলীপুর গ্রামের কৃষক আশরাফ আলী বলেন, ‘দুই বিঘা জমিতে পেঁয়াজ করেছি। প্রতি বিঘায় প্রায় ৪৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু এখন যে দামে বিক্রি হচ্ছে, এতে বড় ধরনের লোকসান গুনতে হবে।’
একই ধরনের কথা জানান কৃষক কুদ্দুস মিঞা। তিনি বলেন, ‘গত ১০ বছরে এমন কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি হতে দেখিনি।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুর্গাপুর উপজেলার সিংগাবাজার, কানপাড়া এবং পাশের বাগমারা উপজেলার তাহেরপুর, মোহনগঞ্জ ও ভবানীগঞ্জ হাটবাজারেও একই চিত্র।
বর্তমানে কৃষকেরা জমি থেকে দ্রুত পেঁয়াজ উত্তোলন করছেন। ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কায় অতিরিক্ত শ্রমিক নিয়োগ করতে হচ্ছে, এতে উৎপাদন খরচ আরো বাড়ছে। অনেক কৃষক বাড়িতে পেঁয়াজ মজুদ রাখলেও ক্রেতার অভাবে তা বিক্রি করতে পারছেন না।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় দুই হাজার ১৭০ হেক্টর জমিতে সাঁচি পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ বছর তাহেরপুরী ও নাসিক এন-৫৩ জাতের পেঁয়াজের ভালো ফলন হয়েছে। তবে অতিরিক্ত সরবরাহ ও বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতায় এ দরপতন দেখা দিয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা পারভীন লাবনী বলেন, ‘ভরা মৌসুমে পেঁয়াজের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দাম কমে গেছে। এ সুযোগে ফড়িয়া ও মজুদদাররা কম দামে কিনে পরে বেশি দামে বিক্রির চেষ্টা করে।’
বর্তমান পরিস্থিতিতে কৃষকদের লোকসান ঠেকাতে দ্রুত বাজার নিয়ন্ত্রণ ও পরিবহন ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন কৃষকরা।



