সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রোগীদের নিম্নমানের খাবার সরবরাহের অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
স্থানীয় গণমাধ্যমে একাধিকবার এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলেও পরিস্থিতির দৃশ্যমান কোনো উন্নতি হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রোগী ও তার স্বজনেরা।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী রোগীদের পুষ্টিকর ও মানসম্মত খাবার দেয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তার চরম ব্যত্যয় ঘটছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে হাসপাতাল পরিদর্শনে দেখা যায়, দুপুরের খাবারে রোগীদের অত্যন্ত সামান্য পরিমাণ ভাত, ডাল ও নিম্নমানের মাছ-তরকারি পরিবেশন করা হচ্ছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কয়েকজন রোগী অভিযোগ করেন, খাবারের মান ও স্বাদ এতটাই খারাপ যে মুখে তোলার উপযোগী নয়। ফলে পুষ্টি ও সুস্থতার আশায় হাসপাতালে এসে উল্টো অনেকেই বাধ্য হয়ে স্বজনদের মাধ্যমে বাইরে থেকে খাবার এনে খাচ্ছেন।
হাসপাতালে ভর্তি থাকা এক রোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আজ দুপুরে যে খাবার দেয়া হয়েছে, তাতে নুন-মসলা কিছুই ঠিকমতো ছিল না। এই খাবার মানুষ খেতে পারে না। বাধ্য হয়ে বাড়ি থেকে খাবার আনিয়ে খেয়েছি।’
আরেক রোগীর স্বজন জানান, হাসপাতালের খাবার খাওয়ার অযোগ্য হওয়ায় তারা অনেকেই এখন আর হাসপাতাল থেকে খাবার নিচ্ছেনই না।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী মেনু মেপে পর্যাপ্ত পরিমাণে মাছ, মাংস, ডিম, শাকসবজি ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করার জন্য বড় অঙ্কের বাজেট বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে রোগীদের পাতে তা মিলছে না। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের এমন অনিয়মের পেছনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারির অভাব রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সচেতন মহলের ভাষ্য, ইতিপূর্বে এই অনিয়ম নিয়ে গণমাধ্যমে একাধিক সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কিংবা ঠিকাদারের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ফলে সিন্ডিকেটের হাত ধরে রোগীদের এই ভোগান্তি ও সরকারি অর্থের অপচয় অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে খাবার সরবরাহকারী সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে উল্লাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মো: মোনেয়ার হোসাইন বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। আশা করছি অল্প কিছু দিনের মধ্যে এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।’



