সিলেটে হামে আরো ২ শিশুর মৃত্যু

স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, আক্রান্ত ও সন্দেহজনক রোগীদের চিকিৎসার পাশাপাশি পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। হাম প্রতিরোধে টিকাদান ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।

Location :

Sylhet
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশু
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশু |ফাইল ছবি

এম জে এইচ জামিল, সিলেট ব্যুরো
সিলেটে হামের প্রকোপে আরো দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৭ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরো ১১৯ জন। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে সন্দেহজনক হাম রোগী হিসেবে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৩০৩ জন।

বুধবার (৫ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদফতরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক ডা: মো: মাহবুবুল আলম এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগে মারা গেছে দুই শিশু। তাদের মধ্যে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১১ মাস বয়সী অবিন্ধন দাশ মারা যায়। সে সিলেট নগরীর মনিপুরী পাড়ার বাসিন্দা। অপর শিশু দেড় বছর বয়সী জান্নাত সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার বাসিন্দা।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এ পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মোট ১১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জে সর্বোচ্চ ৫২ জন, সিলেটে ৪১ জন, মৌলভীবাজারে ১৩ জন এবং হবিগঞ্জে ১২ জন মারা গেছে। মৃত ১১৮ জনের মধ্যে নিশ্চিত হাম ছিল ছয়জনের। বাকি ১১২ জন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সিলেট বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৫৩ জন। এর মধ্যে সিলেটে ২৪৮, হবিগঞ্জে ৭৯ জন (দুইজন রুবেলা), মৌলভীবাজারে ৭৫ এবং সুনামগঞ্জে ৩৫১ জন শনাক্ত হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হওয়া ১১৯ জনের মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৫৪, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৫১, নর্থ ইস্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এক, গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চার, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে চার এবং সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে পাঁচজন রয়েছে।

বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৩০৩ জনের মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৩৬, ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৭৫, রাগীব-রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১২, নর্থ ইস্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নয়, গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চার, বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৩৬, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে দুই এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ২৬ জন রয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, আক্রান্ত ও সন্দেহজনক রোগীদের চিকিৎসার পাশাপাশি পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। হাম প্রতিরোধে টিকাদান ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।