পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলায় তিনটি এডিবি প্রকল্পের কাজ বণ্টনকে কেন্দ্র করে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা পরিষদের সিএ ইয়াসির আরাফাতের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এডিবি প্রকল্পের কাজ সাধারণত সংশ্লিষ্ট উপজেলার ঠিকাদারদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেওয়া হলেও, উপজেলা পরিষদের সিএ ইয়াসির আরাফাত তার নিজস্ব লাইসেন্স ব্যবহার করে এবং এলজিডি সার্ভারে প্রভাব খাটিয়ে পছন্দের ব্যক্তি ও আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে নাজিরপুর উপজেলার কিছু ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও ঠিকাদাররা। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দপ্তরের মধ্যস্থতায় সংশ্লিষ্ট আরএফকিউ (RFQ) কার্যক্রমটি বাতিল করা হয় বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে “হোসাস হাওলাদার এন্টারপ্রাইজ”-এর স্বত্বাধিকারী আসলাম হোসেন অভিযোগ করে বলেন, অভিযুক্ত ইয়াসির আরাফাত এর আগেও নাজিরপুর উপজেলায় বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং একই ধরনের কর্মকাণ্ড জিয়ানগরেও করছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে ইয়াসির আরাফাতের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
উপজেলা প্রকৌশলী এমরান আহম্মেদ খান বলেন, “যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে টেন্ডার কলটি বন্ধ করা হয়েছে। অল্প সময়ের ব্যবধানে এ ধরনের ভুল হতে পারে।”
অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মো. হাফিজুর রহমান বলেন, “টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের মেকানিজম গ্রহণযোগ্য নয়। অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো আমরা খতিয়ে দেখছি। সরকারি বিধি অনুযায়ী আত্মীয়স্বজন বা ঘনিষ্ঠদের মাধ্যমে কাজ করানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।”
উল্লেখ্য, অভিযুক্ত সিএ আরাফাত হোসেনের বিরুদ্ধে এর আগেও নাজিরপুর উপজেলায় একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে এবং সেসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে বদলির ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।



