রংপুর মহানগরীতে সড়কে মরা ইঁদুর ফেলার প্রতিবাদ করায় পলিটেকনিক শিক্ষার্থী ও শিবির কর্মীদের ওপর হামলা, মারধরের ঘটনায় দোকানদার ও ছয় শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে ছাত্রশিবির ও শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করেন।
সোমবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুর ৩টার দিকে নগরীর রাধা বল্লব সালেমা গলি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার দুপুর ৩টার দিকে নগরীর রাধা বল্লব সালেমা গলি এলাকায় মুদি দোকানদার রেজাউল ইসলাম তার দোকানের মরে যাওয়া ছোট ছোট বেশ কয়েকটি ইঁদুর সড়কে ফেলে দেন। ওই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করার সময় আরআইটি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থী ও শিবির কর্মী আলিফ আল ইমরান দোকানদারকে মরা ইঁদুরগুলো রাস্তায় ফেলে না দিয়ে অন্যত্র ফেলে দেয়ার জন্য অনুরোধ করেন। এনিয়ে দু’জনের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হলে দোকানদার আলিফকে ব্যাপক মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
এ ঘটনার খবর পেয়ে ছাত্রশিবিরের সরকারি কলেজ শাখার শাহাদত হোসাইন, শিহাবসহ কযেকজন দোকানদারের কছে গিয়ে ঘটনাটি মিটমাট করার চেষ্টা করেন। এরই মধ্যে দোকাদার ফোন করে লোকজন জড়ো করেন। একপর্যায়ে সেখানেও বাগবিতণ্ডা হলে দোকানদার শিক্ষার্থীদের আটকে রেখে মারধর করেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের ছাত্রাবাস থেকে শিক্ষার্থী ও শিবির নেতাকর্মীরা ছুটে আসেন।
এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় পুলিশ। ঘটনা বেগতিক দেখে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় দোকানদার রেজাউল, শিক্ষার্থী ও শিবির কর্মী আলিফ আল ইমরান, শিবার, আব্দুর রহমান, নুরুদ্দিন আহমদ, জাকির হোসেন, সামসুল ইসলাম আহত হন। তাদেরকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এদিকে সাংবাদিকদের দাবি, শিক্ষার্থীরা বিচারের দাবিতে রাধাবল্লভ মোড় অবরোধ করেন। সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে দীপ্ত টেলিভিশনের প্রতিনিধি ফেরদৌস জয়কে গালিগালাজ ও ভুয়া ভুয়া বলে চিৎকার করে মব তৈরির চেষ্টা চালায়। এ ঘটনার প্রতিবাদে সাংবাদিকরা তাৎক্ষণিকভাবে ছাত্রশিবিরকে দায়ী করে ঘটনার সাথে জড়িতদের বিচারের দাবিতে ডিসি অফিসের সামনে অবস্থান ধর্মঘট করেন। পরে প্রশাসন বিচারের আশ্বাস দিলে তারা অবস্থান তুলে নেয়।
এ ব্যাপারে রংপুর মহানগর শিবির সেক্রেটারি আনিছুর রহমান বলেন, ‘আমরা খবর পাই একজন শিক্ষার্থীকে মারপিট করে গুরুতর আহত করা হয়েছে। পরে আমাদের পক্ষ থেকে ঘটনাটি শোনার জন্য কয়েকজনকে পাঠাই ঘটনাস্থলে। তখন উল্টো ওই দোকানদারসহ বেশ কয়েকজন মিলে তাদের অবরুদ্ধ করে মারপিট করে। পরে শিক্ষার্থীরা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। সেখানে কোনো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি।’
তিনি আরো বলেন, ‘এ ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করলে সেখানে সম্মানিত সাংবাদিক ভাইয়েরা আসেন। দুই-একজন সাংবাদিক শিক্ষার্থীদের উল্টা-পাল্টা ও জোর করে প্রশ্ন করতে থাকলে পাশ থেকে শিক্ষার্থীরা ভুয়া ভুয়া স্লোগান দেয়। পরে সেখানে থাকা সিনিয়র শিক্ষার্থীরা বিষয়টি সমাধান করেন। যারা ভুয়া ভুয়া স্লোগান দিয়েছেন তারা ছাত্রশিবিরের সাথে জড়িত নন। সাংবাদিকরা জাতির বিবেক। তাদের অবশ্যই দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা করা উচিত। তারপরেও আমরা বিষয়টি দেখব। আমাদের কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
শিবির সেক্রেটারি বলেন, ’শিক্ষার্থীর ওপর হামলা ও মারধরের বিষয়টি আমরা জেলা প্রশাসকের সাথে সাক্ষাৎ করে জানিয়েছি। তিনি দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন। সে কারণে আর আমরা আন্দোলনে যাচ্ছি না।’
রংপুর মেট্রোপলিটন কোতয়ালী থানার ওসি (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ মামলা করেনি। আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি। এখন ঘটনা স্বাভাবিক।
রংপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ এনামুল আহসান জানান, বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবহিত। এ ব্যাপারে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
রংপুর সম্মিলিত সাংবাদিক সমাজের সদস্য সচিব লিয়াকত আলী বাদল বলেন, ‘সাংবাদিকরা কাজ করবে, প্রশ্ন করবে। সেজন্য তাদের ভুয়া ভুয়া বলা ও গালিগালাজ করার বিষয়টি স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থি। আমরা মনেকরি, ছাত্রশিবিরকে বিষয়টি নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তা না হলে আমরা আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো।’



