নীলফামারীর জলঢাকায় বাস-মিনিবাস ও কোচ শ্রমিক ইউনিয়ন অফিস উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের শঙ্কায় জলঢাকা পেট্রোল পাম্প ও জলঢাকা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছিল উপজেলা প্রশাসন।
শুক্রবার (৩ জুলাই) বেলা ২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ওই ১৪৪ ধারা জারি করেন জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপী।
পাঁচ ঘণ্টা ব্যাপী ১৪৪ ধারা জারি থাকার পর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই এদিন রাত ৮টায় জলঢাকা উপজেলা পেট্রোল পাম্প এলাকায় নীলফামারী জেলা বাস-মিনিবাস ও কোচ পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি. নং- রাজ-৩৪৪৬) শ্রম কল্যাণ কমিটি জলঢাকা শাখার কার্যালয়ের উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন নীলফামারী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সৈয়দ আলী। এ সময় ফিতা কেটে অফিস উদ্বোধন করেন নীলফামারী জেলা বাস, মিনিবাস ও কোচ পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন এবং জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি নূর আলম।
শ্রম কল্যাণ কমিটি জলঢাকা শাখার (রেজি. নং- রাজ-৩৪৪৬) সভাপতি রউফুল ইসলাম বাবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ময়নুল ইসলাম, বিশেষ বক্তা হিসেবে নীলফামারী জেলা ট্রাক-ট্যাংক লরি শ্রমিক ইউনিয়ন ও জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক জামিয়ার রহমান এবং জেলা তাঁতী দলের সভাপতি শাহজাদা মুক্তি বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কমিটির জলঢাকা শাখার সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম।
এ সময় বক্তারা বলেন, নীলফামারী জেলা বাস-মিনিবাস ও কোচ পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি. নম্বর- রাজ-৩৪৪৬) শ্রম কল্যাণ কমিটি জলঢাকা উপজেলার মোটর শ্রমিকদের ভাগ্য পরিবর্তন করতে সচেষ্ট থাকবে। জেলার পরিবহন সেক্টরকে উন্নত এবং যাত্রীসেবার মান বাড়ানো হবে; যা এই জেলার পরিবহন সেক্টরে সুনাম বয়ে আনবে।
বক্তারা আরো বলেন, প্রতিপক্ষ একটি সংগঠন এই অফিস উদ্বোধনে বাধা সৃষ্টির পাঁয়তারা করেছিল, যা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে রক্ষা পেয়েছে। প্রশাসনের ১৪৪ ধারার সময়সীমা শেষ হওয়ার পরেই আমরা এই অফিস উদ্বোধন করতে পেরেছি।
উল্লেখ্য যে, জলঢাকা পেট্রোল পাম্প এলাকায় নীলফামারী জেলা বাস-মিনিবাস ও কোচ পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি. নম্বর- রাজ-৩৪৪৬) নামে একটি নতুন কমিটির আত্মপ্রকাশ হয়। অপরদিকে, জলঢাকা বাসস্ট্যান্ডে আগে থেকেই মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি. নম্বর- ২২০) তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। নতুন সংগঠনের আত্মপ্রকাশকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
তবে এ বিষয়ে মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের (রেজি. নম্বর- ২২০) সভাপতি মমিনুর রহমান বলেন, ‘আমাদের সংগঠনটি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের আওতাভুক্ত। নতুন যে সংগঠনটি আত্মপ্রকাশ করেছে, সেটি কেবল ট্রেড ইউনিয়নভুক্ত একটি সংগঠন। তারা আমাদের বাসের নাম ব্যবহার করে কোনো ধরনের অর্থ আদায় করতে পারে না। এখানে একটি বৈধ সংগঠন থাকা অবস্থায় অন্য কোনো সংগঠন নিজেদের কর্তৃত্ব দাবি করতে পারে না। এটি অনাকাঙ্ক্ষিত। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’
এ বিষয়ে জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপী বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করায় এবং সংঘর্ষ হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থাকায় তা ঠেকাতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছিল। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ১৪৪ ধারা সন্ধ্যা ৭টায় প্রত্যাহার করে নেয়া হয়।



