কাঁঠালিয়ায় প্রতিপক্ষের বাড়িতে হামলার অভিযোগে বিএনপি নেতা বহিষ্কার

শুক্রবার বিকেলে দলীয় প্যাডে কাঁঠালিয়া উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জালালুর রহমান আকনের স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

কাঁঠালিয়া (ঝালকাঠি) সংবাদদাতা

Location :

Jhalokati
বহিষ্কারাদেশ
বহিষ্কারাদেশ |নয়া দিগন্ত

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের একদিন পর প্রতিপক্ষের বাড়িতে হামলা ও দলীয় নির্দেশ অমান্যের অভিযোগে ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় উপজেলার পাটিখালঘাটা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান কালামকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে দলীয় প্যাডে কাঁঠালিয়া উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জালালুর রহমান আকনের স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সূত্র জানায়, শুক্রবার রাত ৯টার দিকে ঝালকাঠি-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় বিএনপির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামাল নিজ বাসার সামনে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা নেতাকর্মীদের উদ্দেশে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেয়ার পর বহিষ্কারের সিদ্ধান্তটি জানান। এর আগে শুক্রবার দুপুরে মিজানুর রহমান কালামকে দলীয় শৃঙ্খলা অমান্য ও ভঙের অপরাধে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন কাঁঠালিয়া উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জালালুর রহমান আকন। তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়।

রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, ‘অভিযুক্ত নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করা হয়। তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর নির্দেশে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘ভবিষ্যতে কেউ দলের নাম ব্যবহার করে হামলা, চাঁদাবাজি বা কোনো ধরনের অপকর্মে জড়ালে তার বিরুদ্ধেও কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

পাটিখালঘাটা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান কালাম বলেন, ‘শুক্রবার দুপুরের পরে কারণ দর্শানোর নোটিশ পেয়েছি। নোটিশের জবার দেয়ার জন্য এক দিনের সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছিল। শুনেছি শুক্রবার রাতেই আমাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আমাকে জবাব দেয়ার সময় পর্যন্ত দেয়া হয়নি। তবে এখন পর্যন্ত বহিষ্কারাদেশের কোনো চিঠি পাইনি।’

এ সময় রাজাপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তালুকদার আবুল কালাম আজাদ, সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুল হক নান্টু এবং উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুম বিল্লাহ পারভেজ উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা সমর্থকেরা ফুল নিয়ে এলেও কোনো ধরনের বিতর্ক এড়াতে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য তা গ্রহণ করেননি।

ঘটনার সাথে সাথে দলীয় নেতাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। তবে দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ ভোটারদের একটি বড় অংশ এ সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।

তাদের মতে, অভিযোগ প্রমাণ হওয়ার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ায় এটি অন্যদের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়াতে কেউ আর সাহস পাবে না।