উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নকে বাল্যবিবাহমুক্ত ঘোষণা করা হলেও এ অর্জন ধরে রাখতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে আরো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানিয়ে রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মীর সাহেদুল ইসলাম চৌধুরী রোমান বলেন, ‘আমাদের রাজাপালং ইউনিয়নকে বাল্যবিবাহমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এরপরও কোথাও বাল্যবিবাহের ঘটনা ঘটতে দেখলে শুধু প্রশাসনের দিকে তাকিয়ে থাকলে হবে না, সমাজের প্রতিটি সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব হবে তা প্রতিরোধ করা।’
বুধবার (২৪ জুন) রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে চাইল্ড সেইফটি নেট প্রকল্পের আওতায় ওয়াল ভিশন আয়োজিত বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ বিষয়ক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চেয়ারম্যান রোমান বলেন, ‘বাল্যবিবাহ একটি সামাজিক ব্যাধি। এর কুফল সম্পর্কে সমাজের সচেতন মহলকে আরো জোরালোভাবে কথা বলতে হবে। মসজিদের ইমাম, বিদ্যালয়ের শিক্ষক, সাংবাদিক এবং জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই এ সামাজিক ব্যাধিকে নির্মূল করা সম্ভব।’
তিনি আরো বলেন, ‘যেখানে ‘ধূমপানমুক্ত এলাকা’ লেখা থাকে সেখানে একজন ধূমপায়ী ব্যক্তি ধূমপান করতে সংকোচবোধ করেন। ঠিক তেমনি রাজাপালং ইউনিয়ন বাল্যবিবাহমুক্ত হিসেবে পরিচিতি পেলে অন্য এলাকার মানুষও এ ইউনিয়নের বাসিন্দাদের সঙ্গে বাল্যবিবাহে জড়াতে লজ্জাবোধ করবে।’
সেমিনারে বক্তারা বলেন, বাল্যবিবাহ কিশোরীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানসিক বিকাশের পথে বড় বাধা। এ ধরনের বিয়ে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে। তাই বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠনগুলোকে আরো কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নুরুল কবির, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সৈয়দ হামজা, একেএনসি উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আলমগীর কবির, পালংখালী বালিকা মাদরাসার প্রধান শিক্ষক জমির হোসেন, রাজাপালং কেজি অ্যান্ড ক্যাডেট স্কুলের অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর চৌধুরী, ইউনিয়ন পরিষদের সচিব এনামুল হক, মহিলা সদস্য খুরশিদ বেগম, ওয়াল ভিশনের সাইফুল ইসলাম ও মিতু সরকার পাপিয়া।
সেমিনারে অংশগ্রহণকারীরা রাজাপালং ইউনিয়নকে স্থায়ীভাবে বাল্যবিবাহমুক্ত রাখতে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, অভিভাবকদের সম্পৃক্ততা এবং তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।



