কুমিল্লায় ট্রেন ও বাসের সংঘর্ষে ১২ জন নিহতের ঘটনায় গেটম্যান হেলাল উদ্দিন ও ওয়েম্যান মেহেদী হাসানকে আসামি করে লাকসাম রেলওয়ে থানায় মামলা করেছেন আহত বাসযাত্রী শেফালী আক্তার।
বাদি শেফালী আক্তার দুর্ঘটনায় নিহত সোহেল রানার খালা। তার বাড়ি কুমিল্লার লাকসামে।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে লাকসাম রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জসীম উদ্দিন জানান, বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ‘দায়িত্বে অবহেলাজনিত কারণে মৃত্যু’ সংক্রান্ত ৩০৪ (ক) ধারায় মামলাটি করা হয়েছে। মামলার বাদি নিহত সোহেল রানার খালা শেফালী আক্তার, যিনি নিজেও ওই বাসে ছিলেন।
ওসি জসীম উদ্দিন আরো জানান, মালয়েশিয়া প্রবাসী সোহেল রানা ঈদ করতে চুয়াডাঙ্গার নিজ বাড়িতে আসেন। সেখান থেকে ঈদের দিন কুমিল্লার লাকসামে খালার বাড়িতে বেড়াতে আসার পথে পদুয়ার বাজার লেভেল ক্রসিংয়ে এই দুর্ঘটনায় সোহেল রানা নিহত হন। একই ঘটনায় আহত তার স্ত্রী ও মেয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শনিবার (২১ মার্চ) ঈদের দিন ভোররাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের লেভেল ক্রসিংয়ে ঢাকাগামী একটি ট্রেনের সাথে ‘মামুন স্পেশাল’ নামের একটি বাসের সংঘর্ষে ১২ জন যাত্রী নিহত হন। এছাড়াও এ ঘটনায় গুরুতর আহত হন অন্তত আটজন যাত্রী।
ঘটনা পর পদুয়ার বাজার এলাকায় দায়িত্বে থাকা রেলের দুই গেটম্যান হেলাল ও মেহেদীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আহতদের দাবি, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ট্রেন আসার সময় লেভেল ক্রসিংয়ের গেট নির্ধারিত সময়ে বন্ধ করতে পারেননি দায়িত্বরত গেটম্যানরা। এতেই ঘটে ভয়াবহ এই দুর্ঘটনা।



