নবাবগঞ্জে ধানের শীষে ভোট দিতে হিন্দুদের বিএনপি নেতার হুমকি

“যারা হিন্দু ভাইয়েরা আছেন তাদের বাক্স আলাদা থাকবে। কে কয়টা ভোট দেন, আর কে কয়টা দিলেন না, ওইটা টোকা দিলেই কিন্তু গণনার সময় বের হয়ে যাবে।” ঢাকা-১ (নবাবগঞ্জ-দোহার) নির্বাচনী এলাকায় বিএনপি প্রার্থীর উঠান বৈঠকে এভাবে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের হুমকি দেন একজন সেন্টু মোল্লা নামের এক নেতা।

Location :

Nawabganj
ঢাকার নবাবগঞ্জের যন্ত্রাইল ইউনিয়নে নির্বাচনী উঠান বৈঠকে ধানের শীষে ভোট দিতে প্রকাশ্যে হিন্দুদের হুমকি দেন বিএনপি নেতা সেন্টু মোল্লা
ঢাকার নবাবগঞ্জের যন্ত্রাইল ইউনিয়নে নির্বাচনী উঠান বৈঠকে ধানের শীষে ভোট দিতে প্রকাশ্যে হিন্দুদের হুমকি দেন বিএনপি নেতা সেন্টু মোল্লা |নয়া দিগন্ত

নবাবগঞ্জ (ঢাকা) সংবাদদাতা

“যারা হিন্দু ভাইয়েরা আছেন তাদের বাক্স আলাদা থাকবে। কে কয়টা ভোট দেন, আর কে কয়টা দিলেন না, ওইটা টোকা দিলেই কিন্তু গণনার সময় বের হয়ে যাবে।” ঢাকা-১ (নবাবগঞ্জ-দোহার) নির্বাচনী এলাকায় বিএনপি প্রার্থীর উঠান বৈঠকে এভাবে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের হুমকি দেন একজন সেন্টু মোল্লা নামের এক নেতা।

এলাকায় ওই হুমকির ভিডিও ভাইরাল হলে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়। প্রকাশ্যে হুমকি দেয়ার ঘটনা ঘটলেও অভিযোগ না পাওয়ার অজুহাতে প্রশাসন রহস্যজনকভাবে নীরব রয়েছে।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাতে নবাবগঞ্জ উপজেলার যন্ত্রাইল ইউনিয়নে নির্বাচনী উঠান বৈঠকে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সেন্টু মোল্লা প্রকাশ্যে এলাকার হিন্দু জনগোষ্ঠির সদস্যদের হুমকি ধমকি দেন। এ ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হলে তড়িঘড়ি করে ওই বিএনপি নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

ভাইরাল ভিডিও ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে ঢাকা-১ সংসদীয় আসনে নবাবগঞ্জ উপজেলার হিন্দু জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত যন্ত্রাইল ইউনিয়নে বিএনপি প্রার্থী একটি উঠান বৈঠক চলছিলো। বৈঠকে উপজেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ ও যন্ত্রাইল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেন্টু মোল্লা তার বক্তব্যে হিন্দুদের উদ্দেশ্যে হুমকি দিয়ে বলেন, “গুণে গুণে ভোট নেওয়া হবে। আপনারা ঘরে ঘরে গিয়ে খন্দকার আবু আশফাকের ভোট কালেকশন করবেন। কে কয়টা ভোট দেন, আর কে কয়টা দিলেন না, ওইটা টোকা দিলেই গণনার সময় কিন্তু বের হয়ে যাবে। এজন্য আপনারা শুরুতেই সচেতন হয়ে যান।”

এদিকে বিএনপি প্রার্থীর নির্বচনী উঠান বৈঠকে দলীয় এক নেতার প্রকাশ্য হুমকিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নবাবগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা এক হিন্দু ব্যক্তি বলেন, “এটি একটি ন্যাক্কার ও উদ্বেগজনক ব্যাপার। সেন্টু মোল্লা যা বলেছেন তা অপ্রত্যাশিত এবং এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রতিকার আশা করি।”

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা সেন্টু মোল্লা বলেন, “আমি অনিচ্ছাকৃতভাবে মুখ ফসকে কথাটি বলে ফেলেছি, আমার ভুল হয়েছে, আমি ক্ষমা প্রার্থী।”

নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার দিলরুবা ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে সুনির্দ্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।