ময়মনসিংহে এক আসামিকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়ার সময় হাতকড়াসহ আসামি ছিনতাই ও পুলিশের ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনায় সাতজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়রি) দিবাগত রাতে পুলিশ ও র্যাবের অভিযানে ওই আসামিদেরকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতাররা হলেন মো: সাগর আলী হাজী (৬০), সুজন মিয়া (২৭), নাজিম উদ্দিন (৩৭), এ কে এম রেজাউল করিম (৩৫), মো: নাজিম উদ্দিন (৪২), মো: জয়নাল উদ্দিন (৪২), মো: খলিলুর রহমান (৪০)।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার বিকেলে নগরীর দিগারকান্দা এলাকায় একটি মামলার আসামিকে হাতকড়াসহ থানায় নেয়ার পথে তার সহযোগীরা অতর্কিতভাবে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় পাচঁজন পুলিশ সদস্যর গুরুতর আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফরিদ আহমেদ ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানান কোতুয়ালী মডেল থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব।
তদন্ত কর্মকর্তা ফরিদ আহমেদ ও এলাকাবাসী জানায়, কয়েকদিন আগে রাসেল নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগে দিঘারকান্দা এলাকার সাগর আলীর ছেলে আরিফুল ইসলামসহ কয়েকজনের নামে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা করা হয়। বর্তমানে রাসেল রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মঙ্গলবার বিকেলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ফরিদ আহমদের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি দল দিগারকান্দা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি আরিফুল ইসলামকে গ্রেফতার করে। পরে তাকে নিয়ে আসার সময় আরিফুলের বাবা সাগর আলীর নেতৃত্বে এলাকাবাসী লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করে হাতকড়া পরিহিত আরিফুলকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
খবর পেয়ে পুলিশ, র্যাব, সেনাবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থল পৌঁছে পাঁচ পুলিশ সদস্যকে তাৎক্ষণিক উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ আরিফুলের বাবা সাগর আলীকে আটক করে।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: নাজমুস সাকিব জানান, পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে হাতকড়াসহ আরিফুল ইসলাম নামে আসামিকে ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনায় গ্রেফতারে অভিযান চলছে। রাতভর অভিযান চালিয়ে আরো ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হামলার সাথে জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



