শিবির সভাপতি সাদ্দাম

তরুণ প্রজন্ম আকাঙ্ক্ষা পূরণে প্রয়োজনে আবারো রাজপথে নামবে

‘সমাজব্যবস্থায় দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদিতা পশ্চিমা সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখলেও তা মানুষের জন্য প্রকৃত কল্যাণ বয়ে আনে না। আল্লাহর আইনই একমাত্র মানুষের কল্যাণ স্থাপন করে এবং পুরো পৃথিবীতে রাজনৈতিক, শিক্ষা, সমাজ, আইন ও দেশ পরিচালনাসহ সকল ব্যবস্থাপনায় ইসলামই একমাত্র মুক্তির পথ।’

মুহাম্মদ হানিফ ভুঁইয়া, নোয়াখালী অফিস

Location :

Noakhali
বক্তব্য রাখছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন
বক্তব্য রাখছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন |নয়া দিগন্ত

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলেছেন, ‘তরুণ প্রজন্ম আকাঙ্ক্ষা পূরণে প্রয়োজনে আবারো রাজপথে নামবে।’

তিনি বলেন, ‘তরুণ প্রজন্ম যে সংস্কার ও গণভোটের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আন্দোলন করেছে, তা অনতিবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে। সরকারের বোধোদয় না হলে সাধারণ জনগণ ও ছাত্রসমাজ আবারো রাজপথে তীব্র প্রতিবাদ গড়ে তুলবে।’

সোমবার (১৩ জুলাই) শহরের একটি কনভেনশন হলে নোয়াখালী সরকারি কলেজের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

শিবির সভাপতি বলেন, ‘ক্যাম্পাসগুলোতে র‌্যাগিং, সিট দখল ও ভর্তি বাণিজ্য বন্ধ করে সেগুলোকে আদর্শ ও নৈতিকতার ‘মার্কেট প্লেস’ (মার্কেট প্লেস অফ ভ্যালুজ) হিসেবে গড়ে তোলতে হবে।’ একইসাথে তিনি জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে ছাত্র রাজনীতির আমূল পরিবর্তনের ওপর জোর দেন।

তিনি বলেন, ‘সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নবীন শিক্ষার্থীরা আসার পর জ্যেষ্ঠদের দ্বারা র‌্যাগিং বা হেনস্তার শিকার হন। এই নেতিবাচক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে ইসলামী ছাত্রশিবির শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার কাউন্সিলিং, সফট ও হার্ড স্কিল ডেভেলপমেন্ট এবং ইথিক্যাল ডেভেলপমেন্ট নিয়ে কাজ করছে।’

ছাত্র রাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপটের সমালোচনা করে তিনি আরো বলেন, ‘রাজনীতি এখন অনেকের কাছে এক ধরনের ব্যবসা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে এই ধরনের চেতনা আর চলবে না। এখন ছাত্রদের কাছে যেতে হবে আইডিওলজি, থিম ও নতুনত্ব নিয়ে।’

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভিসি ও প্রশাসক নিয়োগের প্রসঙ্গ টেনে শিবির সভাপতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সাদা দল বা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল না করলে কেউ ভিসি হতে পারবেন না— এমন নগ্ন দলীয়করণ আমরা জুলাই-পরবর্তীতে দেখতে চাই নাই। দলীয় অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ডের ব্যক্তিকে ভিসি বানানো হয়েছে। সহস্রাধিক শহীদ এই ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরশাসনযুক্ত ক্যাম্পাসের জন্য জীবন দেননি।’

বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা ও বেকারত্ব সঙ্কটের সমালোচনা করে সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘শিক্ষার মান বাড়লেও মানবিক মূল্যবোধের কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। বর্তমানে দেশে ৪১ লাখ বেকার রয়েছে। প্রতি বছর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চার লাখ শিক্ষার্থী বের হলেও তাদের কর্মসংস্থানের কোনো ব্যবস্থা করা হচ্ছে না এবং এই পরিবর্তনে সরকারের কার্যকরী কোনো ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘সমাজব্যবস্থায় দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদিতা পশ্চিমা সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখলেও তা মানুষের জন্য প্রকৃত কল্যাণ বয়ে আনে না। আল্লাহর আইনই একমাত্র মানুষের কল্যাণ স্থাপন করে এবং পুরো পৃথিবীতে রাজনৈতিক, শিক্ষা, সমাজ, আইন ও দেশ পরিচালনাসহ সকল ব্যবস্থাপনায় ইসলামই একমাত্র মুক্তির পথ।’

অনুষ্ঠানের শেষ অংশে প্রধান অতিথি নতুন শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং ক্যারিয়ার গঠনে দিকনির্দেশনামূলক পরামর্শ প্রদান করেন।

নোয়াখালী সরকারি কলেজ ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোহাম্মদ আল-আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও নোয়াখালী জেলা জামায়াতের আমির ইসহাক খন্দকার, নোয়াখালী সরকারি কলেজের সাবেক শিবির সভাপতি অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসেন, ছাত্রশিবির নোয়াখালী শহর সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মাহবুব প্রমুখ।