সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের পাটলাই নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুটির কাজ দুই বছরের মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে গত আট বছরেও কাজ শেষ হয়নি। এদিকে গত দেড় বছর ধরে কাজ একেবারেই বন্ধ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট দফতর সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) আওতাধীন উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের ডাম্পের বাজার থেকে নতুন বাজার পর্যন্ত সেতুর কাজ পায় তমা কনস্ট্রাকশন নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। চুক্তি অনুযায়ী, ২০২১ সালের মধ্যে দৈর্ঘ্য এক হাজার ৪৫০ ফুট এবং প্রস্থ ৩২ ফুট এ সেতুর কাজ ৪৩ কোটি ৭৬ লাখ ৬৮ হাজার ৫৭৯ টাকা ব্যয়ে শেষ করার কথা। কিন্তু ২০২৪ সালের শুরুতে প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হলেও ৫ আগস্ট থেকে হঠাৎ করেই নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়।
জহির উদ্দিন ও মালিক মিয়াসহ সচেতনমহল জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি, কাজের ধীরগতি ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি না রাখায় এখনো সেতুর কাজ শেষ হয়নি। পর্যটন স্পট টাঙ্গুয়ার হাওর, শহীদ সিরাজ লেক, লাকমাছড়া, বারেকটিলা, যাদুকাটা নদী ও শিমুল বাগানে পর্যটকসহ স্থানীয়দের চলাচল সহজ করার জন্য এ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়।
এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, পরিবেশ অনুকূলে থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নানা অজুহাতে অনেক সময় কাজ বন্ধ রেখেছিল। শুধু তাই নয়, শুরু থেকেই কাজে ধীরগতি ছিল। সেতুর কাজ শেষ না হওয়ায় বর্ষা ও শুষ্ক মৌসুমে স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থীসহ নানা বয়সের মানুষদের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় নদী পারাপার হতে হচ্ছে। এতে সময় ও টাকা দুটোই নষ্ট হচ্ছে। সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়কের মাটি বর্ষায় ভেঙে যাচ্ছে। পাশাপাশি অসমাপ্ত কাঠামোর রডে মরিচা ধরে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ সেতুটি এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন হলেও কাজ থমকে যাওয়ায় জনমনে চরম হতাশা দেখা দিয়েছে। সেতুটি চালু হলে দুর্ভোগ কমবে।
তারা বলেন, সেতুটিতে যে কাজ বাকি রয়েছে তা শেষ করতে এক মাসও সময় লাগবে না। সেতুটি চালু হলে এ এলাকার পর্যটন স্পষ্টগুলোতে গতি বাড়বে এবং পর্যটকদের ভোগান্তি কমবে।
এ বিষয়ে তাহিরপুর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম জানান, পাটলাই নদীর ওপর প্রায় ৪৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন সেতুটির বিষয়ে ঠিকাদারকে নিয়মিত তাগাদা দেয়া হচ্ছে যেন দ্রুত কাজটি শেষ করে।
সুনামগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আনোয়ার হোসেন জানান, সেতুর মূল নির্মাণকাজ প্রায় শেষ। উপরের কিছু কাজ বাকি রয়েছে। সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়কের কাজ পুরোপুরি হয়নি। ঠিকাদারের সাথে আলোচনা করে পুনরায় কাজ শুরুর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মেহেদী হাসান মানিক বলেন, ‘পাটলাই নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুর কাজ চালু ও কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করবো, যেন সেতুটি দ্রুত সম্পন্ন করার পদক্ষেপ গ্রহণ করে। সেতুটি হলে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াত ভোগান্তি দূর হবে।’



