মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ এই দুই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন ফারজানা শারমিন পুতুল। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ২ হাজার ৭২৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নতুন মন্ত্রীসভার সদস্যরা শপথ নিয়েছেন তিনি। জেলার প্রথম নারী হিসেবে মন্ত্রীসভায় স্থান পাওয়ায় তার নির্বাচনী এলাকায় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ ও আনন্দ মিছিল করেছেন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দলের চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন পুতুল। লালপুরের বেটি (মেয়ে) রাজশাহী বিভাগে একমাত্র বিজয়ী নারী প্রার্থী হিসেবে সম্ভাব্য মন্ত্রী তালিকায় তার নাম রয়েছে বলে জানা যায়। নেতা-কর্মীরা বলেন, তার বাবার পর লালপুরবাসী হারানো মন্ত্রীত্ব আবার ফিরে পাবে ইনশাআল্লাহ।
ফারজানা শারমিন পুতুলের বাবা বিএনপির সাবেক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মরহুম ফজলুর রহমান পটল ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে এই আসন থেকে টানা চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে ২০০৮ সালের নির্বাচনে আসনটি বিএনপির হাতছাড়া হয়। পরবর্তীতে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে দীর্ঘ ১৮ বছর এই আসনে বিএনপির কোনো জনপ্রতিনিধি ছিলেন না। বাবার মৃত্যুর পর সেই হারানো আসনটি পুনরুদ্ধার করলেন মেয়ে পুতুল।
তিনি এ আসনের প্রথম নারী ও সর্বকনিষ্ঠ নির্বাচিত সংসদ সদস্য। এবারের নির্বাচনে রাজশাহী বিভাগে একমাত্র বিজয়ী নারী প্রার্থী। তিনি জেলার প্রথম নারী প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দুই মন্ত্রণালয় পেলেন।
প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পর ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল প্রতিক্রিয়ায় মহান আল্লাহ তাআলার প্রতি শুকরিয়া জানিয়ে বলেন, বিএনপির চেয়ারপার্সন ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিকট চিরকৃতজ্ঞ। সেই সাথে অসংখ্য নেতা-কর্মীসহ লালপুর-বাগাতিপাড়ার মানুষ নির্বাচনী মাঠে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন তাকে বিজয়ী করেছেন। তাদের প্রতি অকৃত্রিম ভালবাসা জানিয়ে তিনি আরো বলেন, এই অর্জন সেই সব মানুষের জন্য।
ফারজানা শারমিন পুতুল নাটোরের লালপুরের গৌরীপুরে ১৯৮৪ সালের ২ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মো: ফজলুর রহমান পটল (৫৮-নাটোর-১ লালপুর-বাগাতিপাড়া আসন থেকে চার মেয়াদের সংসদ সদস্য ও নাটোর জেলার প্রথম মন্ত্রী) এবং মাতা কামরুন্নাহার শিরিনের (সাবেক অধ্যক্ষ)। তিনি ২০০৯ সালের ১৬ জুলাই এইচ এম বাররু সানির সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁদের একমাত্র সন্তান নাযাহ।
তিনি ঢাকা ভিকারুন্নেছা নুন স্কুল ও কলেজে পড়াশুনা করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে ২০০৬ সালে স্নাতক (সম্মান) ও ২০০৭ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে লন্ডনের বিপিপি ইউনিভার্সিটি ল’ স্কুল/কলেজ থেকে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ল’ বিষয়ে ২০১১ সালে স্নাতক ও ২০১২ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ব্যারিস্টার ডিগ্রি অর্জন করেন।
তিনি আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ এবং বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিএনপির ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম, সাবেক সাংসদ ও অষ্টম জাতীয় সংসদের আইন ও বিচার বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদের ‘মওদুদ আহমেদ অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস’-এ আইন পেশায় যুক্ত ছিলেন। বর্তমান নিজস্ব ‘রাইটস চেম্বারস’ ঢাকা হাইকোর্ট ও সুপ্রীম কোর্টের একজন আইনজীবী হিসেবে কর্মরত।
তিনি বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক কমিটির সদস্য, বিএনআরসি এডিটরিয়াল বোর্ডের সদস্য। ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর তাকে বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করা হয়। তিনি ২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ঢাকার মহাখালির ক্যাপিটাল ল’ কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি নিযুক্ত হন।
তিনি মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর প্রজ্ঞাপনে ‘দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার কমিশন’ এর সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ২০২৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি নাটোর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনোনীত হন।
তিনি ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন। এ আসনে প্রথম নারী ও সর্বকনিষ্ঠ নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে ইতিহাস গড়েন ফারজানা শারমিন পুতুল।



