সৈয়দপুরে জমি নিয়ে দুই পরিবারের সংঘর্ষে আহত ১১

শহিদুল ইসলাম ও শাহজাহান আলীর পরিবারের মাঝে দীর্ঘদিন থেকে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এর জের ধরে একাধিকবার দুই পরিবারের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে।

মো: জাকির হোসেন, সৈয়দপুর (নীলফামারী)

Location :

Saidpur
জমি নিয়ে সংঘর্ষে আহতরা
জমি নিয়ে সংঘর্ষে আহতরা |নয়া দিগন্ত

নীলফামারীর সৈয়দপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পরিবারের ১১ জন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে সৈয়দপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কয়া গোলাহাট এবরাতুল্লাহ সরকার পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন- শাহজাহান আলীর ছেলে আবু বকর সিদ্দিক স্বপন (৩২), মরহুম গিয়াস উদ্দিনের ছেলে জমসেদ আলী (৫৫), গোলাম রব্বানীর ছেলে রফিকুল ইসলাম (৩৫), শরিফুল ইসলাম (২৮), রব্বেল আলীর ছেলে মো: আসাদুল (৩০), মরহুম হযর উদ্দিনের ছেলে মো: দুলাল (৪৫), মরহুম নুর ইসলামের ছেলে সামেদুল ইসলাম বাবু (৩৩), শহিদুল ইসলামের স্ত্রী জাহান আরা (৫২), ছেলে আরিফ (২৫) ও আব্দুস সালাম (২৮) এবং আব্দুস সাত্তারের ছেলে সাখাওয়াত হোসেন চৌধুরী (৫৫)।

জানা গেছে, সরকার পাড়ায় এলাকার শহিদুল ইসলাম ও শাহজাহান আলীর পরিবারের মাঝে দীর্ঘদিন থেকে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এর জের ধরে একাধিকবার দুই পরিবারের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ গত শুক্রবারও বিকেলে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতি ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে শাহজাহান পরিবারের দু’জন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার সময় আবারো সংঘর্ষ বাধে তাদের মাঝে। এতে শাহজাহান পরিবারের পাঁচজন ও শহিদুল পরিবারের চারজন আহত হন। দীর্ঘ তিন ঘণ্টা পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। সবাই সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

আহত রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গতকাল শহিদুলের ছেলে আব্দুস সালাম, আরিফ, সোহাগ, বাফাজ উদ্দিনের ছেলে মিজানুর, আব্দুস সাত্তারের ছেলে শাহাজাদ, সাখাওয়াত হোসেন চৌধুরী, হাসিম উদ্দীনের ছেলে তারিকুল ও রিফাতসহ ২০ থেকে ৩০ জন বিরোধপূর্ণ জমিতে গিয়ে অযথা গালিগালাজ করে। এতে প্রতিবাদ করলে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মারধর করায় আবু বকর সিদ্দিক স্বপন ও জমসেদ আলী আহত হন। তাদের গতকালই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা পারিবারিকভাবে আলোচনাকালেই আজ সকালে আবার তারা সংঘবদ্ধভাবে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত আমাদের বাড়িতে এসে হামলা চালায়। এতে আমরা আহত হয়েছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রতিপক্ষের হামলায় আমরা রক্তাক্ত হয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা মাটিতে পড়ে ছিলাম। তারা অস্ত্র হাতে রাস্তা অবরোধ করে রাখায় হাসপাতালে নেয়া সম্ভব হয়নি। তাদের ভয়ে পাড়া প্রতিবেশীরাও সাহায্যে এগিয়ে আসতে পারেননি। এমনকি পুলিশ আসার পরও তারা অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেন এবং বাড়ির সব গাছ কেটে সাবাড় করেছে। পরে আরো পুলিশ এসে আমাদের উদ্ধার করে।’

অন্যদিকে শহিদুল পরিবারের জাহান আরা বলেন, ‘যেখানে মামলা চলছে। সেখানে শাহজাহান ও তার লোকজন ওই জমি দখল করতে বাইরে থেকে ভাড়া করে লোক এনে বাড়িতে জড়ো করেছিল। এই খবর পেয়ে জমি দখল প্রতিরোধে এগিয়ে গেলে তারা পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী হামলা চালায়। আমাকে ও আমার ছেলের ওপর অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। এতে আমরা রক্তাক্ত জখম হয়েছি।’