বরগুনার পাথরঘাটায় রিয়াজ নামের এক যুবককে কোপানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবুল বাশার সুজন (৩৮) নামের এক যুবককে গণপিটুনির পর চোখ উপরে হত্যা করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে পাথরঘাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক সুজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে, একইদিন সকাল ১০টার দিকে উপজেলার রায়হানপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে মধ্য লেমুয়া এলাকায় নিহত সুজনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। পাথরঘাটা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অশিত কুমার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
নিহত সুজন উপজেলার রায়হানপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য লেমুয়া এলাকার মরহুম বজলুর রহমানের ছেলে। ঘটনার পর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল বাড়িয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় গ্রাম পুলিশ মো: সগরি হোসেন জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে আবুল বাশার সুজন একই এলাকার মন্টু মিয়ার ছেলে কালু মিয়াকে (২০) মোবাইল সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে মারধর করেন। খবর পেয়ে কালুর বড় ভাই রিয়াজ (২৮) ঘটনাস্থলে গেলে তার ওপরও সুজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় সুজন রিয়াজকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হাত বিছিন্ন করে দেয়। হাত বিচ্ছিন্ন করার বিষয়টি এলাকাবাসী জানতে পেরে আহত রিয়াজকে উদ্ধার করে দ্রুত পার্শ্ববর্তী মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে রিয়াজ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তিনি আরো জানান, ঘটনার পর আজ (শুক্রবার) সকাল ১০টার দিকে এলাকাবাসী উত্তেজিত হয়ে সুজনের বাড়িতে গিয়ে গণপিটুনি দিয়ে তার চোখ উপড়ে ফেলে এবং তার ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে জালিয়ে দেয়। পরে দুপুর ২টার দিকে তার বাড়ির উঠান থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় সুজনকে পাথরঘাটা থানা পুলিশ উদ্ধার করে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানকার দায়িত্বরত চিকিৎসক সুজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
পাথরঘাটা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অশিত কুমার জানান, লাশ পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। ঘটনার পেছনে কী ঘটেছে তার তদন্ত চলছে। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে। লাশের সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।



