ভূমধ্যসাগরে ১২ তরুণের মৃত্যু

সুনামগঞ্জে ৯ মানবপাচারকারীর বিরুদ্ধে দুই মামলা

মামলার বাদী হয়েছেন দিরাই উপজেলার জগদল ইউনিয়নের বাসুরি গ্রামের নিহত সোহানুর রহমানের বাবা ছালিকুর রহমান এবং জগন্নাথপুর উপজেলার পাইলগাঁও গ্রামের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান।

আবদুল কাদের তাপাদার, সিলেট ব্যুরো

Location :

Sunamganj

লিবিয়া থেকে সাগরপথে নৌকাযোগে গ্রিস যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে ১২ বাংলাদেশী তরুণের মৃত্যুর ঘটনায় সুনামগঞ্জে ৯ মানবপাচারকারীর বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে জগন্নাথপুর থানায় একটি ও দিরাই থানায় অপর একটি মামলা করা হয়েছে।

সোমবার (৩১ মার্চ) রাতে নিহতদের স্বজনরা এসব মামলা দায়ের করেন।

মামলার বাদী হয়েছেন দিরাই উপজেলার জগদল ইউনিয়নের বাসুরি গ্রামের নিহত সোহানুর রহমানের বাবা ছালিকুর রহমান এবং জগন্নাথপুর উপজেলার পাইলগাঁও গ্রামের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান।

জানা গেছে, গত শনিবার লিবিয়া থেকে অবৈধভাবে গ্রিস যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবে ২২ অভিবাসীর মৃত্যু হয়। এর মধ্যে ১৮ জন বাংলাদেশী এবং তাদের মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলার ১২ জন রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দিরাই উপজেলার ৬ জন, জগন্নাথপুর উপজেলার ৫ জন এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার ১ জন রয়েছেন।

নিহতরা হলেন দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের তারাপাশা গ্রামের আবু সরদারের ছেলে মো. নুরুজ্জামান সরদার ময়না (৩০), আবদুল গণির ছেলে সাজিদুর রহমান (২৮), ইসলাম উদ্দিনের ছেলে সাহান এহিয়া (২৫), রাজানগর ইউনিয়নের আবদুল মালেকের ছেলে মুজিবুর রহমান (৩৮), করিমপুর ইউনিয়নের মাটিয়াপুর গ্রামের তায়েক মিয়া এবং বাসুরি গ্রামের সোহাস; দোয়ারাবাজার উপজেলার কবিরনগর গ্রামের ফয়েজ উদ্দিনের ছেলে আবু ফাহিম; জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউড়া গ্রামের সোহানুর রহমান, টিয়ারগাঁও গ্রামের শায়েক আহমেদ, চিলাউড়া কবিরপুর গ্রামের মো. নাঈম, পাইলগাঁও গ্রামের আমিনুর রহমান এবং ইছগাঁও গ্রামের মোহাম্মদ আলী।

এ ঘটনায় নিহতদের স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো জনপদ। মানবপাচারকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতদের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা।

জগন্নাথপুর উপজেলার টিয়ারগাঁও গ্রামের নিহত শায়েক আহমেদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার বাবা আখলুছ মিয়া উঠানে পড়ে বিলাপ করছেন। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার পোলারে আইন্যা দে। আমার পোলারে না খাওয়াইয়া মারছে। আমি দালাল আজিজুলের ফাঁসি চাই।”

তিনি জানান, ছেলেকে গ্রিসে পাঠাতে ইছগাঁও গ্রামের দালাল আজিজুল ইসলামের কাছে দুই দফায় মোট ১২ লাখ টাকা দিয়েছেন। বর্তমানে আজিজুল লিবিয়ায় অবস্থান করছেন এবং তিনিই এলাকার যুবকদের লিবিয়া থেকে গ্রিসে পাঠানোর ব্যবস্থা করতেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

দিরাই উপজেলার নিহত সাহান এহিয়ার বড় ভাই জাকারিয়া জানান, দালাল জসিমের সাথে প্রত্যেকের ১২ লাখ টাকা চুক্তিতে গত মাসে তারা বাড়ি থেকে রওনা দেন। প্রথমে ৬ লাখ টাকা অগ্রিম দেয়া হয় এবং বাকি ৬ লাখ টাকা গ্রিসে পৌঁছানোর পর দেয়ার কথা ছিল। তাদের প্রথমে ঢাকা থেকে বিমানে সৌদি আরব, পরে মিশর হয়ে লিবিয়ায় নেয়া হয়। কয়েকদিন ধরে তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে শনিবার বিকেলে আত্মীয়ের মাধ্যমে মৃত্যুর খবর জানতে পারেন পরিবারের সদস্যরা।

সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সুজন সরকার জানান, এখন পর্যন্ত ১২ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ ঘটনায় ৯ দালালের নাম উল্লেখ করে এবং আরো কয়েকজনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে আপাতত তাদের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না। অভিযুক্তদের গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।