আ’লীগ সরকারের অপরিকল্পিত উন্নয়নেই বেড়েছে জলাবদ্ধতা : রিজভী

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার তৈলারদ্বীপ এলাকায় বন্যাকবলিত স্থান পরিদর্শন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মো: নূরুল কবির, আনোয়ারা (চট্টগ্রাম)

Location :

Anwara
আনোয়ারায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ বিতরণ করছেন অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনসহ নেতৃবৃন্দ
আনোয়ারায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ বিতরণ করছেন অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনসহ নেতৃবৃন্দ |নয়া দিগন্ত

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের অপরিকল্পিত উন্নয়ন, খাল-জলাশয় দখল এবং পরিবেশবিরোধী প্রকল্পের কারণেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার তৈলারদ্বীপ এলাকায় বন্যাকবলিত স্থান পরিদর্শন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রিজভী বলেন, ‘বিগত আওয়ামী লীগ সরকার অপরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ব্যাপক ক্ষতি করেছে। হাওরাঞ্চলে প্রাকৃতিক পানিপ্রবাহের বিষয়টি বিবেচনা না করেই বিভিন্ন স্থাপনা ও সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। এর ফলে জলাবদ্ধতা বেড়েছে, জীববৈচিত্র্য নষ্ট হয়েছে এবং বহু প্রজাতির মাছ বিলুপ্তির মুখে পড়েছে।’

উন্নয়নের নামে জনগণের অর্থ অপচয় ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগও করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে সরকার এবং বিএনপি শুরু থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে নিয়মিত ভার্চুয়াল বৈঠক করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন। পাশাপাশি বিএনপির নেতাকর্মীরাও নিজস্ব উদ্যোগে ত্রাণ সহায়তা নিয়ে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।’

এসময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, ‘খাল দখল, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ এবং ব্যক্তিস্বার্থে কালভার্ট নির্মাণের কারণেই জলাবদ্ধতা প্রকট হয়েছে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় দখল হওয়া খাল পুনরুদ্ধারের কাজ চলমান রয়েছে। দখলদার যে-ই হোক, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘সারাদেশে ২৬ হাজার কিলোমিটার খাল খননের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর আওতায় পার্বত্য চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকার খাল পুনঃখনন এবং খালের পাড়ে বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পরও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনে সহায়তা অব্যাহত থাকবে।’

পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো: মাসুদ আলম, আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মহিন উদ্দিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) দীপক ত্রিপুরা, আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: জুনায়েত চৌধুরী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো: হেলাল উদ্দিন, সদস্য সরওয়ার হোসেন মাসুদ, জাগির হোসেন, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইসমাইল বিন মনির, সদস্য জুয়েল, শফিউল, হান্নানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।