রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদে টেকসই মৎস্য ব্যবস্থাপনা জোরদারে বহুমুখী কার্যক্রম পরিচালনা করছে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি)। মাছের পোনা উৎপাদন, জীববৈচিত্র সংরক্ষণ, নজরদারি বৃদ্ধি এবং মৎস্যজীবীদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে কাপ্তাই হ্রদের মৎস্যসম্পদ উন্নয়নে ইতিবাচক অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বিএফডিসি রাঙ্গামাটি সূত্র জানায়, তাদের নিজস্ব মারিশ্যাচর হ্যাচারিতে কার্প জাতীয় মাছ রুই, কাতল ও মৃগেল মাছের রেনু উৎপাদন করা হয়। যার উৎপাদন ক্ষমতা বছরে ১০০ কেজি। এছাড়া চট্টগ্রামের হাটহাজারীর হালদা নদী থেকে সংগৃহীত মাছের রেনু ও পোনা থেকে তৈরি ব্রুড মাছ ব্যবহার করে উন্নতমানের পোনা উৎপাদন নিশ্চিত করা হচ্ছে।
উৎপাদিত রেনু রাঙ্গামাটি বিএফডিসির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ১৩টি নার্সারিতে সারা বছর প্রতিপালনের পর প্রতিবছর মে মাসের প্রথম সপ্তাহে কাপ্তাই হ্রদে অবমুক্ত করা হয়। ২০২৫ সালে হ্রদে মোট ৬০ দশমিক ৫৯ টন পোনা মাছ অবমুক্ত করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে কাপ্তাই হ্রদের বিভিন্ন স্থানে সাতটি অভয়াশ্রম স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া ছয়টি মোবাইল মনিটরিং সেন্টারের মাধ্যমে অভয়াশ্রম তদারকি এবং সার্বিক মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। অবৈধ মাছ আহরণ,পরিবহন ও বাজারজাতকরণ প্রতিরোধে নিয়মিত পাহারা ও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। মাছের প্রজনন মৌসুমে মাছের স্বাভাবিক বংশবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে প্রতি বছর তিন থেকে চার মাস হ্রদে মাছ আহরণ বন্ধ রাখা হয়। এ সময় জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিএফডিসির যৌথ তদারকিতে কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
মৎস্যজীবীদের জীবিকা সুরক্ষায় বন্ধকালীন সময়ে বিশেষ ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। ২০২৫ সালে ২৬ হাজার ৭৫১ দুঃস্থ মৎস্যজীবীকে এক হাজার ৬০৫ দশমিক ৬ টন খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়েছে। এতে জেলেরা মাছের অবৈধ আহরণ থেকে বিরত থাকছেন এবং হ্রদের মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। এ জন্য কাপ্তাই হ্রদের প্রতি জেলেকে ৩০ কেজি খাদ্য সহায়তা প্রদানের উদ্যোগও চলমান রয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রায় ৬৮ হাজার ৮০০ হেক্টর আয়তনের রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বদ্ধ জলাশয়ের মধ্যে সর্ববৃহৎ, যা দেশের মোট অভ্যন্তরীণ জলাশয়ের প্রায় ১৯ শতাংশ। বর্তমানে হ্রদে ৮৬টি প্রজাতির মাছ রয়েছে, যার মধ্যে ৭১টি দেশীয় প্রজাতি। মৎস্যখাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাপ্তাই হ্রদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিএফডিসির সমন্বিত এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে কাপ্তাই হ্রদের মৎস্য উৎপাদন আরো বৃদ্ধি পাবে এবং জীববৈচিত্র সংরক্ষণে একটি টেকসই মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।



