এ বছরের শেষে বা আগামী বছরের প্রথম দিকে শুরু হবে বগা সেতুর কাজ : সেতুমন্ত্রী

জামায়াত-বিএনপি সমর্থকদের উত্তেজনায় অবরুদ্ধ মন্ত্রী

এর আগে বিএনপি-জামায়াত সমর্থকদের মুখোমুখি হয়ে প্রায় এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

‎গোলাম কিবরিয়া, ‎পটুয়াখালী

Location :

Patuakhali
আলতাফ হোসেন চৌধুরী ও ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের মাঝে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম
আলতাফ হোসেন চৌধুরী ও ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের মাঝে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম |নয়া দিগন্ত

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, ‘বড় ব্যত্যয় না হলে এই বছরের শেষে বা আগামী বছরের প্রথম দিকে এই সেতুর (৯ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী বগা সেতু) কাজ শুরু করতে পারবো। এটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন যে প্রকল্প আছে তার অংশ। আমি আশা করছি এই সেতুটি বাস্তবায়ন আপনারা দেখতে চলেছেন।’

‎মঙ্গলবার (১৯ মে) পটুয়াখালীর লোহালিয়া নদীর ওপর প্রস্তাবিত ‘৯ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী বগা সেতুথর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে সরেজমিন পরিদর্শন শেষে চরগরবদি ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার মাঠে পটুয়াখালী সড়ক ও জনপথ বিভাগের আয়োজিত সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

‎তিনি বলেন, ‘আমি প্রথমেই বলেছি যে, এই সেতুটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান জননেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে যে নির্বাচিত সরকারটি আছে, আপনারা ভোট দিয়ে যাদের গ্রুপ মেজরিটি দিয়েছেন, তারা বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে জনস্বার্থ বিবেচনা করে অবকাঠামোর একটা ব্যাপক উন্নয়নের কর্মযজ্ঞ হাতে নিয়েছে। এবং সেই কর্মযজ্ঞের অংশ হিসেবে জাতীয় মহাসড়ক, আঞ্চলিক মহাসড়ক, জেলা মহাসড়ক- সেগুলো বাস্তবায়ন হচ্ছে, সম্প্রসারণ হচ্ছে, প্রশস্তকরণ চলছে। এট দা সেম টাইম- যেখানে সেতুর প্রয়োজন সেই প্রকল্পগুলো আমরা হাতে নিচ্ছি।’

‎‎মন্ত্রী বলেন, ‘এই সেতুটি দীর্ঘদিন স্থবির অবস্থায় ছিল। কোনো অগ্রগতি নাই, বাস্তবায়নের কোনো চেষ্টা নাই। এটি জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করছে। মেম্বার অফ পার্লামেন্টদের দাবি আছে, আপনাদেরও প্রত্যাশা রয়েছে। এই সবকিছুর সমন্বয় করবার দায়িত্ব সরকারের আছে। কিন্তু এই দায়িত্বটা আরো বেগ পেয়েছে, আবিরা যখন একাত্তর টিভিতে এক সাক্ষাৎকারে বলেছে, তার ভাষায়— ‘বগা সেতু আমি চাই, এই এলাকার মানুষের জন্য। প্রাইম মিনিস্টার এই ভিডিওটি দেখেছেন, আমাকে সেন্ড করেছেন, দ্রুত করণীয় নির্ধারণ করতে বলেছেন।’

‘আবিরাকে কেন্দ্র করে আমার এখানে আসা,’ বলেন তিনি।

মন্ত্রী অবরুদ্ধ

‎এর আগে বিএনপি-জামায়াত সমর্থকদের মুখোমুখি হয়ে প্রায় এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

‎দুপুর ১টার দিকে সেতুমন্ত্রী বগা ফেরিঘাটে পৌঁছান। সেখান থেকে নদীর পূর্বপাড়ে জামায়াত সমর্থিত স্থানীয় সংসদ ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের আয়োজিত এক সভায় যোগ দিতে ফেরিতে ওঠেন।

‎মন্ত্রী পূর্বপাড়ে পৌঁছানোর সাথে সাথে সভাস্থলে মন্ত্রীর যাওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীরা বাধা দেন। একপর্যায়ে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। এ সময় উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে থাকেন। অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন সেতুমন্ত্রী।

‎প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর সেতুমন্ত্রী একই ফেরিতে পশ্চিমপাড়ে ফিরে আসেন। এরপর গাড়িবহর নিয়ে রওনা করে চরগরবদি ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার মাঠে পটুয়াখালী সড়ক ও জনপথ বিভাগের আয়োজিত সভায় বক্তব্য রাখেন তিনি।

‎এসময় পটুয়াখালী-১ আসনের এমপি আলতাফ হোসেন চৌধুরী ও সেতুমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে বাউফলের এমপি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ উপস্থিত ছিলেন।

‎জামায়াত সমর্থিতরা জানান, জামায়াত আয়োজিত সভায় মন্ত্রীকে অংশ নিতে না দিতেই পরিকল্পিতভাবে বিএনপির নেতাকর্মীরা এই প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে।

‎এদিকে, বিএনপি সমর্থিতরা বলেন, ‘সভাস্থলের ব্যানারে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর ছবি না থাকায় আমরা চাইনি যে মন্ত্রী মহোদয় সেই মঞ্চে উঠুক।’