শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশে পরীক্ষায় ফিরলেন লালপুরের ৮ এইচএসসি পরীক্ষার্থী

২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্য অভিযুক্ত অফিস সহকারী আট শিক্ষার্থীর কাছ থেকে জনপ্রতি সাড়ে তিন হাজার টাকা গ্রহণ করলেও তাদের ফরম পূরণ সম্পন্ন করেননি বলে অভিযোগ ওঠে। ফলে শিক্ষার্থীরা প্রবেশপত্র না পাওয়ায় বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) অনুষ্ঠিত প্রথম পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি।

লালপুর (নাটোর) সংবাদদাতা

Location :

Lalpur
গ্রেফতার অভিযুক্ত কলেজের অফিস সহায়ক অমিত কুমার সরকার, (ডানে) শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে প্রবেশপত্র
গ্রেফতার অভিযুক্ত কলেজের অফিস সহায়ক অমিত কুমার সরকার, (ডানে) শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে প্রবেশপত্র |নয়া দিগন্ত

অফিস সহায়ককে ফরম পূরণের দায়িত্ব দিয়ে প্রতারিত হয়েছে চলতি বছরের আট এইচএসসি পরীক্ষার্থী। দিতে পারেনি এইচএসসির প্রথম দিনের পরীক্ষা। অবশেষে শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছে নাটোরের লালপুর উপজেলার আব্দুলপুর সরকারি কলেজের ওই পরীক্ষার্থীরা।

তবে প্রথম দিন অংশ নিতে না পারলেও তারা দ্বিতীয় দিন শনিবার (৪ জুলাই) বাগাতিপাড়া সরকারি কলেজ কেন্দ্রে নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের সাথে পরীক্ষায় অংশ নেয়। এতে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে।

প্রথম দিন অনুষ্ঠিত বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষা পরবর্তীতে সুবিধাজনক তারিখে নতুন প্রশ্নপত্রে নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন বোর্ড কর্তৃপক্ষ। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শামীম আরা চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে শনিবার সকাল ৮টার দিকে আব্দুলপুর সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো: মামদুদুর রহমান শিক্ষার্থীদের হাতে প্রবেশপত্র তুলে দেন। পরীক্ষায় অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরা হলো— ইসরাত জাহান সূচি, সবুজ আহমেদ, শিমুল শেখ, আকিবুল হাসান, তানভীর হোসাইন, শিমুল আলী, মুক্তাদি হাসান সাব্বির ও হাসিবুল হাসান শাওন।

রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ইফফাত জেরিন জানান, শুক্রবার (৩ জুলাই) ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র প্রস্তুত করে দ্রুত কলেজে পাঠানো হয়। ফলে তারা অবশিষ্ট সব পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে। প্রথম পরীক্ষার বিষয়ে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ পাওয়ায় শিক্ষার্থীরা শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষা বোর্ড, কলেজ প্রশাসন, স্থানীয় প্রশাসন, গণমাধ্যমকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

এদিকে, ঘটনার তদন্তে কলেজের রসায়ন বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ইতোমধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন আব্দুলপুর সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো: মামদুদুর রহমান।

অন্যদিকে, এ ঘটনায় অভিযুক্ত ওই কলেজের অফিস সহায়ক (পিয়ন) অমিত কুমার সরকারকে শুক্রবার বিকেলে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। শনিবার আদালতের মাধ্যমে তাকে নাটোর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান সূচির বাবা ইমামুল হক তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।

শনিবার দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: ইফতে খায়ের আলম।

আদালতে নেয়ার সময় থানা চত্বরে অভিযুক্ত অমিত নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ঘটনার জন্য মিডিয়াকে দায়ী করেন। এ সময় থানায় অবস্থানকালে অভিযুক্ত অমিতের মা বলেন, কাজ করতে গেলে এরকম ভুলভ্রান্তি হতেই পারে।

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্য অভিযুক্ত অফিস সহকারী আট শিক্ষার্থীর কাছ থেকে জনপ্রতি সাড়ে তিন হাজার টাকা গ্রহণ করলেও তাদের ফরম পূরণ সম্পন্ন করেননি বলে অভিযোগ ওঠে। ফলে শিক্ষার্থীরা প্রবেশপত্র না পাওয়ায় বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) অনুষ্ঠিত প্রথম পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি।

ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলনের তাৎক্ষণিক নির্দেশনায় রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এর ফলে শনিবার থেকে আট শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পায়।